Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / সালতামামি ২০২১: একনজরে ঢালিউড
একনজরে ঢালিউড

সালতামামি ২০২১: একনজরে ঢালিউড

এমএনএ বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই সিনেমার পুনর্গঠনের বছর ছিল ২০১৯। বিভিন্ন সমিতির নির্বাচন শেষে জয়ী কমিটি ২০২০ সাল থেকে পুরোদমে কাজের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু করোনা অশনি সংকেত হয়ে হাজির হওয়ায় থমকে গিয়েছিল চিত্রাঙ্গন। ঘুরে দাঁড়ানোর বছরে আছড়ে পড়ল বাংলা সিনেমা। ২০২১ সালেও করোনার রেশ কাটেনি। বছর শেষে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষছে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক, ২০২১ সালে কেমন ছিল ফিল্মপাড়ার হালচাল-

সিনেমা মুক্তি: ২০২০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ১৬টি সিনেমা। যার মধ্যে ২টি ছিল আমদানি এবং ১টি যৌথ প্রযোজনার সিনেমা। ২০২১ সালে সারা বছরে মুক্তি পেয়েছে মোট ৩২টি সিনেমা। যার মধ্যে ২টি ছিল আমদানির। এ বছর যৌথ প্রযোজনার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।

মানহীন সিনেমা দিয়ে বছর শুরু: চলতি বছর শুরুটাই ভালো করতে পারেনি ঢালিউড। মানহীন সিনেমা দিয়ে শুরু হয়েছিল বছর। যাকে ‘বিসমিল্লায় গলদ’ বললে ভুল হবে না। ১ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল রবিউল ইসলাম রাজ পরিচালিত ‘কেন সন্ত্রাসী’ সিনেমাটি। এরপর ‘রংবাজি-দ্যা লাফাঙ্গা’, ‘তুমি আছো তুমি নেই’, ‘নারীর শক্তি’, ‘হৃদয়ের আঙ্গিনায়’ সহ অনেকগুলো মানহীন সিনেমা মুক্তি পায়। বরাবরের মতো যেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দর্শক।

ভিন্নধারার সিনেমা ‍মুক্তি বেশি: ২০২১ সালে ভিন্নধারার সিনেমা মুক্তি বেড়েছে। অরণ্য পলাশের ‘গন্তব্য’, হাবিবুর রহমানের ‘অলাতচক্র’, তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’, সেলিম খানের ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’, নারগিস আক্তারের ‘যৈবতী কন্যার মন’, রাশিদ পলাশের ‘পদ্মাপুরাণ’, এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’, প্রসুন রহমানের ‘ঢাকা ড্রিম’, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ‘নোনা জলের কাব্য’, সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের ‘মিশন এক্সট্রিম’, নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’, রনী ভৌমিকের ‘মৃধা বনাম মৃধা’ সিনেমাগুলো প্রসংশা কুড়িয়েছে দর্শক-সমালোচক মহলে। বছরের শেষ মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েকটি অনুদানের সিনেমা।

এগিয়ে ডিপজল-নিরব: ২০২১ সালে সিনেমা মুক্তির দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন ডিপজল আর নিরব। দুটি করে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তাদের। ২০২০ সালে শাকিব খানের তিনটি সিনেমা মুক্তি পেলেও এ বছর মুক্তি পেয়েছে মাত্র একটি। পরীমনি, অপু বিশ্বাস, মাহি, আরিফিন শুভ অভিনীত একটি করে সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এ বছর।

আলোচনায় তারা: বছরের শুরুতেই দেশে ফিরেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। রহস্যজনকভাবে অনেকটা আড়ালে থাকার পর প্রকাশ্যে আসেন তিনি। বছরের শুরুতেই আলোচনায় আসেন বুবলী। সে আলোচনার ফোকাস চলে যায় পরীমনির দিকে। মামলা, জেল, আদালত ইস্যুতে বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। পাশাপাশি সমালোচনাও হয়েছে তাকে নিয়ে। বছর শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন মাহিয়া মাহি ও ইমন। ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের পরই আলোচনায় তারা। এছাড়া বছর জুড়ে আলোচনায় ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার কারণেই আলোচনায় তিনি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ সফল এ অভিনেত্রী।

জায়েদ-ওমর সানী-মৌসুমী এক ফ্রেমে: শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অদৃশ্য দেওয়াল উঠেছিল ওমর সানী-মৌসুমী আর জায়েদ খানের মধ্যে। কাঁদা ছোড়াছুঁড়িও হয়েছে বেশ, বন্ধ হয়েছিল মুখ দেখাদেখি। বছরের শেষ দিকে অভিমানের পারদ অনেকটাই গলে যায়। এক সিনেমা একসঙ্গে অভিনয় করেন জায়েদ-ওমর সানী-মৌসুমী। একে অপরকে মিষ্টি মুখ করানোর ছবিও ছড়িয়ে পড়েছিল নেট দুনিয়ায়।

পরিচালক সমিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া: এ বছর পরিচালক সমিতির নেতৃত্বে এসেছে নতুন কমিটি। সভাপতি পদে আছেন সোহানুর রহমান সোহান, মহাসচিব পদে শাহীন সুমন। বর্তমান কমিটি আলাদা ইস্যুতে সমিতির সদস্যপদ বাতিল করেছ দুই নির্মাতার। অনন্য মামুন ও নোমান রবিন। এ নিয়ে মিশ্র প্র্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এফডিসি এবং সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

‘করোনা বীর’ মিশা-জায়েদ: করোনাকালে শিল্পীদের পাশে ছিলেন শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। শিল্পীদের অসুস্থতার খবরে ছুটে গেছেন, লাশ কাঁধে তুলে নিয়ে দাফন করেছেন। এ ঘটনায় তাদের ‘করোনা বীর’ আখ্যা দিয়েছেন মেগাস্টার উজ্জল। কিন্তু পরীমনি ইস্যুতে সমিতির নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি অনেকে। আর ইমনের ঘটনায় শিল্পী সমিতির চুপ থাকাটাও সমর্থন করেননি সিনেমা সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

ফাঁকা মাঠে শাপলা মিডিয়া: জাজ মাল্টিমিডিয়া ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার পর ফাঁকা মাঠ পায় শাপলা মিডিয়া। বছরের শুরুতে একশ সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ঢালিউডের ‘বিস্ময়’ হয়ে উঠেন সেলিম খান। ঢাকাই সিনেমার বিপদের বন্ধু হওয়ায় সেলিম খানকে ‘ঢালিউডের ত্রাণকর্তা’ উপাধিও দিয়েছেন নির্মাতাদের কেউ কেউ। বছর শেষে তাকে সংবর্ধনাও দিয়েছে শিল্পী সমিতি ও পরিচালক সমিতি।

মুক্তির অপেক্ষায় দুই সিনেমা: বছরের শেষ দিনে মুক্তির অপেক্ষায় আছে দুই সিনেমা। মীর সাব্বিরের পরিচালনায় অনুদানের সিনেমা ‘রাত জাগা ফুল’ এবং নজরুল ইসলামের ‘চিরঞ্জীব মুজিব’। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোটবোন শেখ রেহানা।

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যায়: বছর শেষে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন অনেকে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এ বছর সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা বেড়েছে। একক প্রযোজনা এবং অনুদানের সিনেমাও নির্মিত হয়েছে অনেকগুলো। তবে দেখা পালা, সেসব সিনেমা কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...