Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি নিষিদ্ধ, তোপের মুখে ঢাবি ছাত্রী হল

সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি নিষিদ্ধ, তোপের মুখে ঢাবি ছাত্রী হল

এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে মেয়েদের সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি নিষিদ্ধ করে নোটিশ দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে তা পরিবর্তন করেছে কর্তৃপক্ষ।

আগের নোটিস সরিয়ে বৃহস্পতিবার হল কর্তৃপক্ষ এক নতুন নোটিশ দিয়েছে, যাতে ছাত্রীদের কক্ষ, বারান্দা, শৌচাগার ও ব্যক্তিগত এলাকা বাদে বাকি সব জায়গায় ‘যথাযথ পোশাক’ পরিধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি পরিধান করাকে অশালীন হিসেবে উল্লেখ করে, ‘দিন বা রাত হোক, হলের ভেতর কখনোই এসব পোশাক পরা যাবে না’ বলে নোটিশ জারি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল কর্তৃপক্ষ। ওই হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি ছাত্রীদের পরিধেয় পোশাক নিয়ে সচেতনতামূলক এমন বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ।

কবি সুফিয়া কামাল হল কর্তৃপক্ষের ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ‘হলের ভেতর দিন বা রাত হোক, কখনোই ছাত্রীদের অশালীন পোশাক (সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি) পরা যাবে না। এ পোশাকে হলের কার্যালয়ে কোনো কাজের জন্য ঢোকা যাবে না। কেউ যদি তা করেন, তবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে হল কর্তৃপক্ষ বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।’

নোটিশ দেওয়ার পরপর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুলভাবে সমালোচিত হয়। ছাত্রীরা কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেন।

নোটিশের ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়াসহ সমালোচনার ঝড় উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফেসবুকে পোস্টে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নোটিশের নিন্দা জানায়। হলে ছাত্রীদের পোশাকের ‘স্বাধীনতায়’ হল কর্তৃপক্ষের ‘এমন হস্তক্ষেপ’ মেনে নেওয়ার মতো না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। এ বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এমন কয়েকজনের ফেসবুক পোস্ট  এখানে তুলে ধরা হলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হলের আবাসিক এক শিক্ষার্থী বলেন, যেকোনো আবাসস্থলে কোনটা শালীন পোশাক আর কোনটা অশালীন পোশাক, সেই মানদণ্ড কোনো ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে দিতে পারে না। শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে যে পোশাক স্বস্তিদায়ক মনে করেন, সেটাই পরে থাকেন।

সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক আরেক ছাত্রী বলেন, আমি কীভাবে চলাফেরা করব, ঘুমাব তা আমাকে কেউ বেঁধে দিতে পারে না। হলে তো আরও অনেক সমস্যা আছে, সে দিকে তো কর্তৃপক্ষের নজর নেই, সব দুশ্চিন্তা পোশাক নিয়ে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে নতুন এ হলটি নির্মিত হলেও ২০১৩ সাল থেকে সেখানে আবাসিকতা পান ছাত্রীরা। বর্তমানে হলের আবাসিক ছাত্রীসংখ্যা দুই হাজার এবং অনাবাসিক ছাত্রীসংখ্যা ৩ হাজার ৩০০। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলটি উদ্বোধন করেছিলেন। আর নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর সমতা প্রতিষ্ঠায় সারাজীবন কাজ করা কবি সুফিয়া কামালের নামে হলটির নামকরণ করা হয়েছে।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...