সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে জিম্বাবুয়ে, মুগাবে গৃহবন্দি
Posted by: News Desk
November 15, 2017
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার পর অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর মধ্যে, রাজধানী হারারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জিম্বাবুয়ে ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (জেডবিসি) দখলে নিয়েছে তারা।
প্রেসিডেন্ট মুগাবের নেতৃত্বাধীন দল জানু-পিএফ সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্টাতিনো চিয়েংগা ও তার মিত্রদের হুঁশিয়ারি দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবস্থান নেয় সেনা সদস্যরা।
জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জিম্বাবুয়ে ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (জেডবিসি) দখলে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেডবিসি সদর দপ্তর দখলে নেওয়ার পর কর্মীদের কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ দেন সেনা সদস্যরা। এ সময় কয়েক জনকে হেনস্তা করা হয় বলে টেলিভিশনের কয়েক জন কর্মী সংবাদ মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন দখলে নেওয়ার পর এক লিখিত বিবৃতিতে দেশটির আপৎকালীন নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সেনাবাহিনী জানায়, এটি ৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের আশপাশে থাকা ‘চিহ্নিত অপরাধীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান। এটি সামরিক ক্যুয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের বিষয় নয়। প্রেসিডেন্ট মুগাবে নিরাপদ আছেন বলেও বিবৃতিতে বলা হয়। একজন জেনারেল বিবৃতিটি পাঠ করেন।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের নেতৃত্বাধীন দল জেডএএনইউ-পিএফ সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনে। এরপর মঙ্গলবার হারারে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে ও এর আশপাশে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান নামতে দেখে সংকট সম্পর্কে প্রথম আঁচ পাওয়া যায়। তবে এ সেনা অভিযানের নেতৃত্বে কে রয়েছেন, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে অপসারণের পর সোমবার সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্টান্টিনো চিওয়েঙ্গা হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান নামানো হয়।
আজ বুধবার ভোরে রাজধানী হারারের উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলীতে তীব্র গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
বিক্ষুব্ধ সেনারা রাস্তায় চলন্ত গাড়িগুলো দ্রুত চলে যেতে বলে। হারারের একটি রাস্তায় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদককে এক সেনাসদস্য বলেন, এটাকে তামাশা ভাবার কারণ নেই। দ্রুত রাস্তা থেকে সরে যান।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রদূত আইজ্যাক মোয়ো সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, সরকার বহাল আছে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিটিতে বলা হয়, আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি ও তার পরিবার নিরাপদ ও ভালো আছে। তাদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তিনি কোথায় আছেন তা বলা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, আমাদের অভিযান অপরাধী ও যারা অপরাধ সংঘটিত করে সেই চক্রের বিরুদ্ধে, যাদের কারণে দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যতো দ্রুত সম্ভব আমরা আমাদের অভিযান শেষ করবো। আমরা আশা করি, পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।
এদিকে জিম্বাবুয়ের এ ঘটনাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্তৃপক্ষ হারারেতে মার্কিন দূতাবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মীকে বাড়ির ভেতর অবস্থানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ জিম্বাবুয়ের 2017-11-15