সৌদি আরবে এবার তৈরি হচ্ছে সিনেমা হল
Posted by: News Desk
December 11, 2017
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সৌদি আরবে চলচ্চিত্রের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে। আজ সোমবার দেশটির ক্ষমতাবান ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের সমাজ সংস্কারের অংশ হিসেবে এ ধরনের ঘোষণা এসেছে।
সৌদি আরবের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩৫ বছরের বেশি সময় নিষিদ্ধ থাকার পর ২০১৮ সালের শুরু থেকে বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র চলবে। শিগগিরই সরকারিভাবে চলচ্চিত্রের লাইসেন্স দেয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
সেইসব চলচ্চিত্র সৌদি আরবের প্যারাডাইম বদলের সাক্ষী হয়ে থাকবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত যে এজেন্ডা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে জনগণকে বিনোদিত করা হবে ওইসব চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
তথ্যমন্ত্রী আওয়াদ আল আওয়াদ জানান, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নতিতে এই সিদ্ধান্ত একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে কট্টরপন্থীরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছে। তাদের মতে, চলচ্চিত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার ফলে সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় পরিচয় হুমকির সম্মুখীন হবে।
অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রনির্মাতা-কর্মীরা। তারা আগে থেকেই বলে আসছিলেন, ইউটিউবের যুগে এসে চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করে রাখার কোনো মানেই হয় না।
যদিও আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানকার উদ্যমী কেউ কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণের ঝুঁকি নিয়েছেন। এবারে অপেক্ষার পালা, অনুমতি পাওয়ার পর সেখানকার চলচ্চিত্র কতদূর এগোতে পারে তা দেখার।
‘কট্টরপন্থি’ থেকে ‘মধ্যপন্থি’ হওয়ার দৌড়ে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল সৌদি আরব। সৌদি আরবে এবার সিনেমা হল করার অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের প্রথমদিকেই হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সুযোগ পেতে পারেন দেশটির নাগরিকরা।
ধর্মীয়ভাবে কঠোর রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে এতদিন সিনেমা নিষিদ্ধ ছিল। এ বছর হঠাৎ করে সৌদির উত্তরাধিকারী হন দেশটির রাজার ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমান।
এরপর গত ২১ জুন এক ঘোষণায় তিনি বলেন, সৌদি আরবকে ‘কট্টরপন্থি’ থেকে ‘মধ্যপন্থি’ ইসলামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে ।
এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী বছর থেকে জনসাধারণকে সিনেমা দেখার অনুমতি দেয়া হবে।
দেশটির সংস্কৃতি ও তথ্যমন্ত্রী আওয়াদ বিন সালেহ আলওয়াদ ওই বিবৃতিতে বলেন, সৌদি আরব সিনেমা হলের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২০১৮ সালের মার্চের মধ্যেই প্রথম সিনেমা মুক্তি পাবে, তারা এমনটিই প্রত্যাশা করছেন বলে জানিয়েছেন আলওয়াদ।
২০৩০ সাল নাগাদ এ খাতে স্থায়ীভাবে ৩০ হাজার এবং অস্থায়ীভাবে আরও ১৩ হাজার লোকের কর্মস্থান হবে বলেও সৌদি সরকার আশা প্রকাশ করছে।
সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালাতে দেয়ার মাইলফলক সিদ্ধান্তের পর নারীদের স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ দেয়ার কথাও ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এবার সিনেমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা এল।
সিনেমা তৈরি এবার হচ্ছে হল সৌদি আরবে 2017-12-11