Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার বিকল্প নেই

স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার বিকল্প নেই

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হচ্ছেন জনগণের সেবক। তাদের কাজ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের সেবা সুবিধা পৌঁছে দেয়া। তাদের কাছ থেকে সরকারের নানা প্রকার ট্যাক্স, ফি আদায় করে সরকারের তহবিলে জমা করা, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। এককথায়, তারা একেকজন একেকটি দায়িত্বশীলতার প্রতীক। এই দায়িত্ববান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যখন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে উদাসীন হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে তাদের ভাবমূর্তি। এমতাবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার বিকল্প কিছু নেই।

জানা গেছে, করযোগ্য আয়সীমার অন্তর্ভুক্ত এমন প্রায় দু’লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের আয়কর বিবরণী রিটার্ন দাখিল করছেন না। স্বাভাবিকভাবেই সরকার তাদের সম্পদের হিসাব জানে না। এর পাশাপাশি যেসব চাকরিজীবী আয়কর বিবরণী দাখিল করেন তারাও তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব গোপন রাখেন। তাদের এই গোপনীয়তার ফলে সরকার একটা উল্লেখযোগ্য অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এটা যেমন একটি ক্ষতি, তার সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় যে ক্ষতি সেটি হচ্ছে এদের উদাহরণ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও অনেক মানুষ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার পথ বা তরিকা অনুসরণ করছে। আর এই Aykor-Returnপ্রবণতার নিট ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এই- সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে বাজেটে, প্রতি বছরই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে আর সেই ব্যর্থতার ফলে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

সিংহভাগ সরকারি চাকরিজীবী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বাইরে অবস্থান করছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় এসব সরকারি চাকরিজীবীর আয়কর বিবরণীর পাশাপাশি আলাদাভাবে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছিল। তখন যারা রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন তাতে দেখা যায় আয়কর বিবরণীর সঙ্গে সম্পদ বিবরণীর বিশাল ফারাক। পরে প্রভাবশালী আমলাদের হস্তক্ষেপে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শুধু সরকারি চাকরিজীবীদেরই নয়, দেশের মন্ত্রী, এমপিসহ অন্য জনপ্রতিনিধিদেরও আয় ও সম্পদ বিবরণীর প্রচলন শুরু হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের অনিয়মিত সরকারের সময়। কয়েক বছর বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে সেটি প্রায় আলোচনার বাইরে চলে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার আগেরবারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সম্পদ বিবরণী জমা নিলেও তা জনসমক্ষে আসেনি। ধারণা করা অসঙ্গত নয় যে, এ উদাহরণও সরকারি চাকরিজীবীদের এ বিষয়ক উদাসীনতা বৃদ্ধি করেছে।

তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর বিদ্যমান বাস্তবতার আলোকে করযোগ্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা থেকে উৎসে কর কর্তন নিশ্চিত করার জন্য ডিও লেটার দিয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ধারা ৫০ অনুসারে নেয়া এই পদক্ষেপ রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের উদাসীনতার অবসান ঘটাবে। তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

                                                                                                                                                                                                  – সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...