আজ ২০১৬ সালের প্রথম দিন। স্বাগত ২০১৬। মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ)র পক্ষে আমরা ২০১৬ সালকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা প্রত্যাশা করি, একটি স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নতুন বছরের মধ্য দিয়ে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। নতুন বছর আলোকিত করুক সবার জীবন।
অসীমের পানে মহাকালের যে যাত্রা, সেখানে সূচিত হল আরেকটি মাইলফলক। এই যে মহাকালের যাত্রা, সেখানে একেকটি বছর আসে নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণা নিয়ে। আমরা মুছে ফেলি গত হয়ে যাওয়া বছরের গ্লানি, উৎসাহ খুঁজে পাই সুখকর ঘটনাগুলো থেকে, তারপর এগিয়ে যাই অগ্রগতির দিকে।
আমরা প্রত্যাশা করি, একটি স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নতুন বছরের মধ্য দিয়ে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। আমরা জানি, ২০১৫ সাল রাজনৈতিকভাবে খানিকটা অস্থিতিশীল ছিল। বছরের প্রায় শেষ দিন অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। নতুন বছরের সূচনায় আমরা প্রত্যাশা করছি, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবধান কমিয়ে আনবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলই অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করবে। বস্তুত এর বিকল্পও নেই। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।
আমরা জানি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বারংবারই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এই অগ্রগতি। এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পরাশক্তি হওয়ার পথে সম্ভাবনাময় ভারতের চেয়েও অধিকাংশ সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে আমরা অর্জন করেছি জাতিসংঘ পুরস্কার। কৃষিতে আমাদের অগ্রগতি অনেক দেশের জন্যই অভাবনীয়। নতুন বছরের সূচনায় আমরা চাই রাজনীতিও সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলুক।
কেমন কেটেছে আমাদের বিদায়ী বছরটি? প্রতি বছরের মতো গত বছরেও আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশার দোলায় দুলেছি আমরা। তবে সুখকর ঘটনায় হৃদয় পুলকিত হওয়ার চেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হৃদয় ভারাক্রান্তই হয়েছে বেশি। বছরের প্রথম তিন মাস বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি চলাকালে পেট্রলবোমায় মানুষের জীবন হয়ে পড়েছিল নিরাপত্তাহীন। সহিংসতায় প্রাণ হারাতে হয়েছে অনেককে। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটগুলো ভারী হয়ে উঠেছিল মানুষের আর্তনাদে। বিদায়ী বছর সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন লেখক-ব্লগার। নিহত হয়েছেন দুই বিদেশী নাগরিক। আঘাত এসেছে সংখ্যালঘুদের ওপরও। এমনকি হামলার ঘটনা ঘটেছে মসজিদেও। এসব ঘটনা নতুন করে জঙ্গি তৎপরতার ভীতি জাগিয়ে তুলেছে জনমনে।
বিদায়ী বছর অনেক বিশিষ্টজনকে হারিয়েছি আমরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- রাজনৈতিক নেতা কাজী জাফর আহমদ, শেখ রাজ্জাক আলী, সৈয়দ মহসিন আলী, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন, ভাস্কর নভেরা আহমেদ, চিত্রকর আসমা কিবরিয়া, গীতিকার নয়ীম গহর ও গোবিন্দ হালদার, সঙ্গীত শিল্পী ফরিদা ইয়াসমীন, অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম, কবি ওমর আলী প্রমুখ। বিএনপি চেয়ারপারসনের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমানও এ বছর মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের সবার পরিবারের প্রতি রইল আমাদের সমবেদনা।
বছরের শেষদিকে মুক্তিযুদ্ধের দুই বড় যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়া স্বভাবতই দেশের একটি বড় আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানিদের চরম আপত্তিজনক মন্তব্যে দেশে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিদায়ী বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশের ছিটমহলগুলো বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হয়েছে।
অর্থনীতি ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল স্বল্প আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশের নিুমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার বিষয়টিও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে বিনিয়োগে স্থবিরতা বিদায়ী বছরেও অব্যাহত ছিল। ক্রীড়াক্ষেত্রে, বিশেষ করে ক্রিকেটে ২০১৫ সাল ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য সাফল্যের বছর। বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সের পর একদিনের আন্তর্জাতিক ত্রিকেটে কয়েকটি বড় দলের বিরুদ্ধে হোয়াইট ওয়াশসহ সিরিজ জয় টাইগারদের বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
২০১৬ সালে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন হবে, তা এ মুহূর্তে বলা কঠিন। আমরা আশা করব, নতুন বছরটি দেশবাসীর জন্য নিয়ে আসবে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দের সব খবর। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বই পারেন বড় কোনো সুখবর উপহার দিতে। নতুন বছরে শুভবুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়ে তারা বছরটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবেন- এটাই প্রত্যাশা। স্বাগত ২০১৬।
-সম্পাদক।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক




