১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল নৌপথ
Posted by: News Desk
July 24, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : নিয়োগপত্র, ভাতা, চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ ১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে দেশের সব নৌপথ।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে আজ বুধবার প্রথম প্রহর থেকে এই ধর্মঘটের কারণে সারা দেশে লাইটার জাহাজ (ছোট আকারের পণ্যবাহী জাহাজ) চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে মাদার ভেসেল (বড় আকারের জাহাজ) থেকে পণ্য খালাসও বন্ধ হয়ে গেছে।
মধ্যরাতের পর থেকে সারা দেশে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীসহ দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন জেলার নৌপথের যাত্রীরা।
নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “মধ্যরাত থেকে আমরা কর্মবিরতি শুরু করছি। দেশের যেখানে যে নৌযান আছে (নদীতে বা সাগরে) সেটাকে সেখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।”
ফেডারেশনের ১১ দফা দাবির মধ্যে মালিকপক্ষের কাছে সাত দফা এবং সরকারের কাছে চার দফা।
মালিকপক্ষের কাছে তাদের দাবির মধ্যে নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া, সার্ভিস বুক দেওয়া, মৃত্যুকালীন ভাতা দেওয়া, সি ও ফুড অ্যালাউন্স চালু এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের দাবি রয়েছে।
আর সরকারের কাছে তাদের চার দফা দাবির মধ্যে নিয়মিত ড্রেজিং, নৌপথে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করার দাবি রয়েছে।
চালক ও শ্রমিকরা জানান, দাবি মেনে নেয়া না হলে অনির্দিষ্টকাল নৌযান ধর্মঘট চলবে। এর ফলে বরিশাল নদী বন্দরে নৌ যাত্রীরা পরেছেন চরম ভোগান্তিতে।
সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে সব রুটের নৌযান চলাচল। অনেক নৌযান বরিশাল নদী বন্দর থেকে সরিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। ফলে বরিশাল থেকে ভোলা-লক্ষীপুর-বরগুনা-মেহেন্দীঞ্জ-হিজলাসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা পরেছেন ভোগান্তিতে। নৌ বন্দরে এসে বিকল্প পথ না থাকায় অনেক যাত্রী ফিরে যান।
নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া জানান, ২০১৫ সালে শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবি অমীমাংসিত থাকায় এবং ভাতা বাড়ানো, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় গত রাত থেকে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে এ ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে দাবিতে ১১ দফা অচল নৌপথ 2019-07-24