এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে কারখানা স্থানান্তর না করায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে জরিমানার অর্থ জমা না দেওয়া ১৫৪টি ট্যানারিকে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাশের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
আদালত বলেছেন, এর ব্যত্যয় হলে তাদের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ এ আদেশ দেওয়া হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, গত ১৬ জুন হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না
সরানো পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে ১৫৪ কারখানার মালিককে রোজ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরে ট্যানারি মালিকেরা আপিল বিভাগে গেলে আপিল বিভাগ ১৫৪ ট্যানারির মালিককে হাজারীবাগ এলাকায় থাকতে হলে দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা দিলেও এর পরবর্তী সময়ে তারা ধারাবাহিকতা রাখেনি।ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগে আছে, তবে জরিমানার অর্থ প্রদান করছে না। এ অবস্থায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়।
তিনি জানান, বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তলব করেন হাইকোর্ট। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শিল্পসচিব হাজির হলে আদালত যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিক টাকা দিচ্ছেন না, তাদের তালিকা দিতে বলেন। সে অনুযায়ী গতকাল বুধবার শিল্পসচিব আদালতে হাজির হয়ে জানান, দেড় শর বেশি কারখানা রয়েছে, যাদের বকেয়ার পরিমাণ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
মনজিল মোরসেদ বলেন, এ পরিস্থিতিতে তাঁরা এসব কারখানা মালিককে হাজির করতে বা অর্থ পরিশোধ করতে বা পরিশোধ না করা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানান। আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে ১৫৪ কারখানা মালিককে উল্লিখিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মনজিল মোরসেদ বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে মোট ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা হয়েছে।
হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে ২০০১ সালে হাইকোর্ট রায় দেন। এরপর কয়েক দফা এই সময়সীমা বাড়ানো হয়। এরপরও হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানোয় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল দিয়ে শিল্পসচিবের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। শিল্পসচিব ব্যাখ্যায় বলেন, ১০টি প্রতিষ্ঠান বারবার তাগিদ সত্ত্বেও তাদের কারখানা সরাতে পদক্ষেপ নেয়নি।
এরপর ওই ১০ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়ে তাঁদের তলব করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন ট্যানারি মালিক ১১ এপ্রিল হাজারীবাগে কারখানা বন্ধ এবং সাভারে সরানোর পদক্ষেপ জানিয়ে হলফনামা দিলে আদালত তাঁদের অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
তিনজন মালিক আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি চারজন মালিকের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। একজন বিদেশে থাকায় তাঁকে ৩ মে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে গত ১৩ এপ্রিল এইচআরপিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্যানারির তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
২০০১ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ২০০৯ সালের ২৩ জুন আরেক আদেশে ট্যানারি সরানোর জন্য ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়।
পরে সরকারপক্ষের আবেদনে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানোর পরও ট্যানারি স্থানান্তরে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

