২০০ কোটি টাকা দিতে চায় গ্রামীণফোন
Posted by: News Desk
November 14, 2019
এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা থেকে শুধু ২০০ কোটি টাকা শর্তসাপেক্ষে পরিশোধ করতে চায় গ্রামীণফোন। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চকে একথা জানান গ্রামীণফোণের আইনজীবী।
তবে এর বিরোধিতা করে বিটিআরসির আইনজীবী কোম্পানিটির কাছ থেকে ‘পাওনা’ আদায়ে বিটিআরসির নোটিশ স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের আবেদন জানান। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য গত সোমবার দিন ধার্য করেছেন।
গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস, এ এম আমিন উদ্দিন, মেহেদী হাসান চৌধুরী, শরীফ ভূঁইয়া ও আতানিম হোসেইন শাওন। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী মাহবুবে আলম, খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
শুনানিতে ফজলে নূর তাপস বলেন, গত ৩ অক্টোবর দুই অপারেটরের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সমঝোতা বৈঠকে বিটিআরসির আরোপিত প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন শর্তে ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণফোন সেভাবেই এগোতে চায়।
এর বিরোধিতা করে বিটিআরসির আইনজীবী মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, অন্তত পাওনার ৫০ ভাগ অর্থ গ্রামীণফোন জমা দিতে হবে। এরপর বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ সময় তিনি বিটিআরসির বিপক্ষে যাওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের আবেদন জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, নমনীয়ভাবে দেখতে হবে।
প্রস্তাবের শর্তগুলো: দুই পক্ষ একটি কমিটি গঠন করে পাওনা পরীক্ষা অথবা পরীক্ষার পদ্ধতি বের করবে। বিটিআরসি লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে; অন্যদিকে অপারেটররা মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে।
অর্থমন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, এনবিআর ও বিটিআরসির চেয়ারম্যান কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখবেন। কমিটি গঠন ও কমিটির কাজ শুরুর আগে সাত দিনের মধ্যে গ্রামীণফোন ১০০ কোটি টাকা ও পরের এক মাসের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা এবং রবি দুই দফায় ৫০ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দেবে।
এসব প্রস্তাব দুই অপারেটর তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে।
গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিটিআরসি। কয়েক দফা চেষ্টায় সেই টাকা আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে দুই অপারেটরকে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর বিটিআরসির দাবি করা টাকার অংক নিয়ে আপত্তি তোলে গ্রামীণফোন ও রবি। বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় দুই অপারেটর আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক হলেও তাতে সফলতা আসেনি।
এরপর গ্রামীণফোনের টাইটেল স্যুট (স্বত্তের মামলা) মামলা নিম্ন আদালত গ্রহণ করেন। কিন্তু এর অধীনে বিটিআরসির দাবি আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গত ২৮ আগস্ট খারিজ করে দেন। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোনের আপিল গ্রহণ করে গত ১৭ অক্টোবর বিটিআরসির নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।
ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে বিটিআরসি। বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান তাতে সাড়া না দিয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরপর ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিটিআরসি। আপিলের শুনানি নিয়ে গত ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ জানতে চেয়েছিল, বিটিআরসির নিরীক্ষা আপত্তি দাবির মধ্যে গ্রামীণফোন ন্যূনতম কত টাকা দিতে পারবে। গত সোমবার এর জবাব দিল গ্রামীণফোন।
গ্রামীণফোন দিতে চায় ২০০ কোটি টাকা 2019-11-14