Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ভবিষ্যত সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হতে হবে
বাজেট

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ভবিষ্যত সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হতে হবে

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করা হবে আগামীকাল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই বাজেট সংসদে পেশ করবেন। বাজেটের প্রাথমিক আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৭,৮৬৪ কোটে। এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় বাজেট। এবার রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩১,৬৫৭ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে অর্থনৈতিক চাকা সক্রিয় রেখে দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকটের কারণে সম্ভাব্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে এই অর্থবছরের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট জনগনের জন্য কতটুকু কল্যাণকর হবে তা বিশ্লেষনের দাবী রাখে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আগামীকে অনেক বড় সমস্যা মোকাবেলা করতে হতে পারে।

তাই এবারের বাজেটে বিভিন্ন বিষয়ের দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির চাপ হবার সম্ভাবনা আছে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬.২শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ঘাটতি কিছুটা কমানো যায় কিনা তা বিবেচনায় রাখা উচিত ।

বাজেট পেশের পর অনেক আলোচনা হয়। আলোচনা সমালোচনা হবেই। চাযের দোকান থেকে শুরু করে বাজেট বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত চলতে থাকে এই আলোচনা। কোন্ পণ্যের দাম বাড়লো আর কোন্ পণ্যের দাম কমলো! করের পরিধি কতটুকৃ বিস্তৃতি হয়েছে! এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার টেবিল সরগরম হয়ে উঠে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় কর নিয়ে। জনগনের আয়ের উপর আরোপিত কর সরকারের সম্পদ বাড়ায়। আর জনগনকে তাদের কষ্টার্জিত আয়ের উপর বেশি করারোপ করা হলে জনগন সন্তুষ্ট হবার কথা নয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের দেশে কর পদ্ধতি খুবই নিম্নমানের। কর জিডিপি অনুপাতের মাত্র ৯.৫ শতাংশ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলে থাকেন। কিন্তু পরবর্তীতে এর কোন উন্নতি দৃশ্যমান হয়না।

সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস কর। অথচ এই কর আদায়ের একটি আধুনিক ও গ্রহনযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা সময়ের দাবী। তা আজ পর্যন্ত হয়নি।

আজ পর্যন্ত আমাদের প্রকৃত করদাতার সংখ্যা নিরূপন করা সম্ভব হয়নি। এটি খুব একটা কঠিন কাজ নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(এনবআর) এই কাজটি খুব সহজে করতে পারে। নতুন কর দাতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে। তাতে সম্ভাব্য করদাতারা কর দিতে উৎসাহিত হবেন। বেশী আয়ের মানুষরা কর না দিতে বিভিন্ন উপায় খোঁজেন। তাদের বিষয়ে এন বি আরকে আরো সতর্ক্ থাকা উচিত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ থেকে করের বোঝা কমানো উচিত।

২০২২-২৩ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে দরিদ্র, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকদের স্বস্থি দিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারের উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের মূল্য লক্ষ্যে পৌঁছুতে হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের  বাজারমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানষরা খুবই সমস্যায় পড়বে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বল্পপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খেলাপি ঋণ গ্রহীতাদের বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক আইনি বিধান রাখতে হবে। অর্থনীতিকে অস্থির করে তোলে এমন যেকোন বিষয়ে সরকারকে দৃঢ়তা দেখাতে হবে।

সরকারের লক্ষ্য হতে হবে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে জিডিপি বৃদ্ধির উপর জোর কম দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে। তবে রাজস্ব বাড়াতে হবে। রাজস্বই হচ্ছে সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। এখন যে পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ হচ্ছে তা তুলনায় যথেষ্ট নয়। আর চাইলেও রাতারাতি রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই সরকারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে বিকল্প আয়ের উৎস বের করতে হবে। সেই সাথে রাজস্ব বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজস্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের কর কমিশনের দায়িত্ব দিতে হবে। করের বিষয়ে কমিশন যে সুপারিশ সরকারের কাছে করবে তা মেনে নিতে হবে। তাহলে জাতীয় রাজস্ব অনেক বেড়ে যাবে। সরকার আগামী বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানোর চিন্তা করছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বরাদ্দ বাড়বে বলে জেনেছি। তা অবশ্যই ভালো দিক। তবে  আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হবেনা। বরং বিদ্যুৎ গ্যাস ব্যবহারে যে অপচয় হয়, তা রোধ করা গেলে বিদ্যুৎ বা গ্যাস্যের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবেনা।

সরকার একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। যা সামাজিক সুরক্ষার জন্য ভালো উদ্যোগ। আগামী অর্থ বছরে ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেস(এনএইচডি) শুরু করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প একটি ভালো উদ্যোগ। বেশকিছু উপজেলায় বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও নিঃস্ব নারীদের নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে ৩৬২ উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় আসবে। এর ফলে আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য সরকারের বরাদ্দ বর্তমান অর্থ বাজেটে এই খাতে ২৩ শতাংশ বেড়ে যাবে।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দের বিষয়ে মূল্যায়ণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন; কিছু কিছু খাতে বরাদ্দ অগ্রাধিকার হিসেবে বাড়াতে হবে। যেমন স্বাস্থ্য খাত। স্বাস্থ্য খাত শুধু চলমান মহামারী মোকাবেলার জন্যই শুধু নয়, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা বাস্তবতার নিরিখে অনেক কম। তাই এই খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এছাড়া শিক্ষাখাত, গ্রামীন অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষায়ও প্রত্যাশিত বরাদ্দ রাখতে হবে।

এছাড়া অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত আউটসোর্সিংয়ে দেশের শিক্ষিত বেকারগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে এবারের বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে।

২০২২-২৩ বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্যোক্তাখাতে মনোযোগ দিতে হবে। চলমান রাশিয়া-উইক্রেন ‍যুদ্ধের কারণে আগামীতে খাদ্যসংকট মোকাবেলায় কৃষিকে অধিকতর গুরত্ব দিতে হবে।

খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে সরকার এবছরের বাজেটে সারে ভর্তুকি ১৫,০০০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববাজারে সারের উচ্চমূল্য সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের কৃষি কাজে উৎসাহ বাড়াতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে স্থানীয় বাজারে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শুধু উৎপাদন বাড়ালে হবেনা। বাজার মনিটরিংয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বে যুদ্ধাবস্থা বজায় থাকলে আগামীতে খাদ্যসংকট যে তীব্রতর হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগামী বাজেট হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আমরা বর্তমানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছি। দেশের উন্নয়ন জরুরী বটে তবে  নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টি সরকারকে আগে নিশ্চিত করতে হবে। আগামী সাধারণ নির্বাচনের কারণে সরকারকে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তাই আগামী বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনমুখী বাজেট প্রণয়ন প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ কষ্টে থাকলে কোন উন্নয়নই দৃশ্যমান হবেনা। তাই বাজেট সবসময় হতে হবে গণমুখি।

আমরা প্রত্যাশা করি, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট এদেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

লেখক: মিয়া মনসফ, যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...