এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ফুড ভ্যালু চেইন নিশ্চিতকরণে দেশে আবাদযোগ্য প্রায় ২.২৩ লাখ হেক্টর পতিত জমিতে ফসলের চাষের উদ্যোগ গ্রহণ, কৃষি পণ্যের বহুমুখীকরণে আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নিশ্চিতকরন, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতি প্রণোদনা প্রদান, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও গুণগত মান রক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রকসংস্থা সমূহের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি পণ্য উৎপাদন ও বিপননে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি, কৃষি বিষয়ক শিল্প, শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানো, উদ্ভাবন এবং নতুনবাজারের জন্য বেসরকারিখাতের ও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উপর জোরারোপ করা হয় ডিসিসিআই আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ফুড ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ফুড ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে কৃষি মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, এমপি অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
ওয়েবিনার সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার ৫০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণার পাশাপাশি ৪% সুদে কৃষি ঋণ, বাজেটে কৃষি যন্ত্রের উপর ভর্তুকি ও ধান কাটা সহজতর করতে বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের ফুড ভ্যালু চেইনে, আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, মূলধন স্বল্পতা, পণ্য সংরক্ষণের অভাব, দূর্বল অবকাঠামো, পণ্য বাজারজাতকরন এবং প্রক্রিয়াজাতকরনের দক্ষতার অভাব প্রভৃতি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে দেশে আবাদযোগ্য প্রায় ২.২৩ লাখ হেক্টর পতিত জমিতে ফসলের চাষের উদ্যোগ গ্রহণ, বিশেষায়িত কৃষি পণ্যের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সরবরাহ নিশ্চিতকরন, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতি প্রণোদনা প্রদান, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, গুণগত মান রক্ষার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, বেসরকারিখাতের কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী, পক্রিয়াজাতকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি পণ্য উৎপাদন ও বিপননে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং পণ্যের বহুমুখীকরনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও নতুনবাজারের জন্য বেসরকারিখাতের ও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উপর জোরারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিতকরনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি কৃষি খাতে আধুনিকায়নে খরচ কমাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণ উপর জোরারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের মূল্য সংযোজন নিশ্চিকরনের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে লাভজনক খাতে পরিনত করা সম্ভব। এছাড়া তিনি কৃষি খাতে আরো বেশি হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর জন্য কৃষি ভিত্তিক শিল্পায়ন আরো বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে, মত প্রকাশ করেন।
কৃষি মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬০ লাখ টন ভূট্রা উৎপাদিত হচ্ছে, তবে ভূট্রা থেকে উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে আরো বেশি দামে ভোক্তাদের নিকট এধরনের পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, যার মাধ্যমে আমাদের কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে আরো সম্প্রসারণের জন্য কৃষি প্রক্রিয়াজাত সেন্টার ও আন্তর্জাতিক মানের একটি ল্যাবরেটরি জন্য পূর্বাচলে ২ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং একাজে সরকারকে সহযোগিতার করার লক্ষ্যে বেসরকারীখাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম নিশ্চিতকরতে হলে ভ্যালু চেইন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। কৃষি মন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারনত আমন ধান চাষ হলেও সম্প্রতি সেখানে মাঁচায় তরমুজের চাষ হচ্ছে, যা অত্যন্ত লাভজনক এবং এ ধরনের কৃষি কাজে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলোজি অ্যান্ড রুরাল ইন্ডাস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম বোরহান উদ্দিন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, ইউনিমার্ট-ইউনাইটেড গ্রুপের পরিচালক মালিক তালহা ইসমাইল বারী, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসিং এসোসিয়েশন’র জেনারেল সেক্রেটারি মোঃ ইকতাদুল হক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী, কারন্যাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. সালেহ আহমেদ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ প্রমুখ নির্ধারিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

