Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ৪৩ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

৪৩ রানের লিড পেল বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : সাকিব-মিরাজের স্পিন ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের কুপোকাত করে শেষ পর্যন্ত ৪৩ রানের লিড পেল বাংলাদেশ। দিনের শেষ সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে এগিয়ে থেকেই ব্যাটিংয়ে নামবে মুশফিকুর রহিমের দল।

দলীয় ১৪৪ রানে অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতনের পর ১০০ রানের লিডের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। অ্যাস্টন অ্যাগার ও প্যাট কামিন্সের প্রতিরোধে সেই স্বপ্ন দ্রুতই মিইয়ে যায়। আজ সোমবার মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের শেষ ঘণ্টা হতাশায় কাটে বাংলাদেশের।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৬০ রানের জবাবে সোমবার ৩ উইকেটে ১৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ধুঁকতে থাকা অজিরা নবম উইকেটে অ্যাগার ও কামিন্সের দৃঢ়তায় গুটিয়ে যাওয়ার আগে ২১৭ রান সংগ্রহ করে।

টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ম সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে ২৬৯ রানে অলআউট হয় অজিরা।

অ্যাস্টন অ্যাগার-কামিন্সের আগে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে যা একটু লড়েছেন ম্যাট রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব। রেনশ ৪৫ এবং হ্যান্ডসকম্ব করেন ৩৩ রান। গ্লেন কামিন্স ২৫ এবং ম্যাক্সওয়েল আউট হন ২৩ রান করে। ডেভিড ওয়ার্নার (৮) এবং উসমান খাজার (১) পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও (৮)। ওয়েড ফিরেছেন ৫ রান করে। অ্যাগার ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান পাঁচটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন তিনটি উইকেট। তাইজুল ইসলাম নেন একটি উইকেট। ১৬তম বারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন সাকিব।

টেস্টের প্রথম দিনটি যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনটি যেন সেখান থেকেই শুরু করেন টাইগাররা। অফস্পিনার মিরাজের হাত ধরে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। তার করা দিনের তৃতীয় ওভারেই স্মিথ সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। আগের দিন ৩ রানে অপরাজিত থাকা স্মিথ আউট হন ব্যক্তিগত ৮ রানে। অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ৩৩ রান।

স্মিথের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামা পিটার হ্যান্ডকম্বকে সঙ্গে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান ম্যাট রেনশ। পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রান যোগ করে এ জুটি। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে জুটি ভাঙেন তাইজুল। তার ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন হ্যান্ডসকম্ব। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১০২ রান।

এরপর ব্যাট করতে নামেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন দারুণ খেলতে থাকা রেনশ। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। হতে দেননি সাকিব। স্লিপে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে রেনশকে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। অজি এই ওপেনার আউট হন ৪৫ রান করে। রেনশর বিদায়ে দলীয় ১১৭ রানে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়।

লাঞ্চের বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমেই ফের ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। বিরতির পর প্রথম ওভারের শেষ বলে ওয়েডকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। আর তাতে করে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনের লেজ বেরিয়ে পড়ে।

অ্যাগারকে নিয়ে আক্রমণাত্মক খেলার কৌশল বেছে নেন ম্যাক্সওয়েল। তবে এর মূল্যও দিতে হয় তাকে। দলীয় ১৪৪ রানের মাথায় সাকিবের বলে ক্রিজ ছেড়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন ম্যাক্সওয়েল। তখন অস্ট্রেলিয়া ১৪৪/৮। বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ১১৬ রানে। ফলে বাংলাদেশের লিড নেয়ার স্বপ্ন আরো উজ্জ্বল হয়। শেষ ২ উইকেট বাংলাদেশি বোলাররা কতক্ষণে তুলে নেবেন—ভাবনাটাও ছিল এমনই। কিন্তু প্যাট কামিন্স আর অ্যাশটন অ্যাগার সেই ভাবনাটারই মোড় ঘুরিয়ে দেন দুশ্চিন্তা আর হতাশার দিকে। এরপর দারুণ এক জুটিতে বাংলাদেশকে হতাশ করেন অ্যাগার-কামিন্স। চা বিরতির পর দুর্দান্ত ডেলিভারিতে কামিন্সকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসান সাকিব। এরপর হ্যাজলউডকে আউট করে সফরকারীদের গুটিয়ে দেন সাকিব। অ্যাগার অবশ্য অপরাজিত আছেন ৩২ রানে। অ্যাগার ব্যাটিংটা যে ভালো পারেন, সেটি জানা ছিলই। অভিষেকেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৮ রানের একটা ইনিংস খেলে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তিন বছর বিরতি দিয়ে টেস্ট খেলতে নেমে দলের বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যাটিং-প্রতিভাটা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি।

অ্যাগার–কামিন্স জুটি এত বড় হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। সাকিবের বলে কামিন্স খুব সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তুসেই ক্যাচ হাতে নিয়েও তা ফেলে দেন শফিউল। কামিন্সের রান তখন ১১। সেই ব্যর্থতার খেসারতটা এখন ভালোভাবেই দিচ্ছে বাংলাদেশ। শফিউল অবশ্য ক্যাচ ফেলার দুঃখটা ভোলার একটা সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর বলেই কামিন্সের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাঁয় দিয়েছিলেন আম্পায়ার আলিম দার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি।

এর আগে বাংলাদেশের ২৬০ রানের মাঝারি মানের সংগ্রহের কৃতিত্ব সাকিব ও তামিম ইকবালের। ১০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ১৫৫ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। আর তাতে করে লড়াই করার পুঁজি পায় টাইগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব ৮৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। সমান ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা তামিম করেন ৭১ রান। নাসির ২৩ এবং মুশফিক ও মিরাজ সমান ১৮ রানের ইনিংস খেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। এছাড়া অ্যাস্টন অ্যাগার দুটি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নেন একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ৭৪.৫ ওভারে ২১৭ (ওয়ার্নার ৮, রেনশ ৪৫, খাওয়াজা ১, লায়ন ০, স্মিথ ৮, হ্যান্ডসকম ৩৩, ওয়েড ৫, অ্যাগার ৪১*, কামিন্স ২৫, হেইজেলউড ৫; শফিউল ০/২১, মিরাজ ৩/৬২, সাকিব ৫/৬৮, তাইজুল ১/৩২, মুস্তাফিজ ০/১৩, নাসির ০/৩)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৭৮.৫ ওভারে ২৬০ (তামিম ৭১, সৌম্য ৮, ইমরুল ০, সাব্বির ০, সাকিব ৮৪, মুশফিক ১৮, নাসির ২৩, মিরাজ ১৮, তাইজুল ৪, শফিউল ১৩, মুস্তাফিজ ০*; হেইজেলউড ০/৩৯, কামিন্স ৩/৬৩, লায়ন ৩/৭৯, অ্যাগার ৩/৪৬, ম্যাক্সওয়েল ১/১৫)

x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...