Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ৮ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন-রদবদল

৮ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন-রদবদল

এমএনএ রিপোর্ট : মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্যদের দপ্তর প্রদানের পাশাপাশি পুরনো বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তরেও ব্যাপক রদবদল হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আজ বুধবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামালকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে দেওয়া হয়েছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ থেকে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে সরিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। অপরদিকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
পূর্ণমন্ত্রীর কাজ করে যাওয়া সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এখন থেকে শুধু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এরপর গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনজনকে মন্ত্রী ও একজনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পরিচিতি : ৭২ বছর বয়সী নতুন মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
মন্ত্রিসভার নতুন মুখ এ কে এম শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য। ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। তার ভাই অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

আরেক নতুন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। আনন্দ প্রিন্টার্স ও আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ৬৮ বছর বয়সী জব্বার ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন। পরের বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ৬৩ বছর বয়সী এই নেতা রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
মন্ত্রিসভায় যত রদবদল : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হয়। ওই দিন ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল; যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দু’জন উপমন্ত্রী।
এর দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। অন্যদিকে, ইসলাম ও হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য অক্টোবরে মন্ত্রিত্ব খোয়ান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
২০১৫ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং অ্যাডভোকেট তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই দিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এর দু’দিন পর ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী। ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০১৬ সালের ১১ মে। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য থেকে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। গত ১৬ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যু হয়।
গত দুই বছরে বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কোনো পরিবর্তন আনেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
x

Check Also

মন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও অভ্যন্তরীণ চলাচলে নতুন প্রটোকল জারি

এমএনএ প্রতিবেদক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশ গমন, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ...