Don't Miss
Home / প্রশাসন / গণভোটসহ অন্তবর্তী সরকারের ১৮ অধ্যাদেশ নিয়ে মতৈনক্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে, বিএনপির ভেটো

গণভোটসহ অন্তবর্তী সরকারের ১৮ অধ্যাদেশ নিয়ে মতৈনক্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে, বিএনপির ভেটো

সংসদ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টি সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দল একমত হয়েছে। তবে গণভোট, দুদক কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।

বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ ও জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অধ্যাদেশগুলো তিনটি ভাগে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিল আকারে সংসদে পাস করা হবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বিল হিসেবে উত্থাপন করা হবে। তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হবে না, সেগুলো চলতি অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হয়ে যাবে; পরে প্রয়োজনে নতুন বিল হিসেবে আনা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী নতুন বিল পাসের আগে পুরোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন করানো জরুরি, নইলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং সাংবিধানিকতা—এই দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ‘জুলাই সুরক্ষা’ সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়ে গেছে। সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ ও জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির আপত্তির কারণে গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আগামী ২৯ মার্চের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তিনি দাবি করেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টি নিয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও বাকি ১৮টি অধ্যাদেশ—যার মধ্যে গণভোট, দুদক কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ রয়েছে—নিয়ে এখনও আলোচনা প্রয়োজন।

রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, দুদক সংশোধনী প্রস্তাবে সার্চ কমিটি বাতিল করে চেয়ারম্যান নিয়োগে সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ‘জুলাই বিপ্লবের’ চেতনার পরিপন্থি। একইভাবে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ নিয়োগেও পেশাদারিত্বের বদলে রাজনৈতিক পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষুণ্ন হবে।” তিনি আরও বলেন, অতীতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার হয়েছে, তাই জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্তে তারা সমর্থন দেবেন না।

তিনি জানান, যেসব বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো নিয়ে আগামী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং ২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমগ্র প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষই বলছে, সাংবিধানিকতা রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ—এই দুই বিষয়কে সামনে রেখেই অধ্যাদেশগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

x

Check Also

ঢাকার চাপ কমাতে সারাদেশে গড়ে তোলা হবে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে দেশের সব অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ...