Don't Miss
Home / প্রচ্ছদ / সংসদে নারী আসন নিয়ে জামায়াত-এনসিপি পৃথক প্রস্তুতি, ২টি আসন পেতে পারে এনসিপি

সংসদে নারী আসন নিয়ে জামায়াত-এনসিপি পৃথক প্রস্তুতি, ২টি আসন পেতে পারে এনসিপি

বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর আসনের আনুপাতিক হারে এই ৫০টি আসন বণ্টন করা হয়—যা ঘিরে দলগুলোর ভেতরে চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের তৎপরতা।

এ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নির্বাচনী জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পৃথকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুই দলই ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী মনোননয় প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়টি এখনো আটকে রয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হলেই যেকোন সময় প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে।

জামায়াতের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত

বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মার্চজুড়ে চলা বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫ জন সম্ভাব্য নারী প্রার্থীর তালিকা তৈরি করে তা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে পাঠানো হয়। তালিকায় চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা জানান, প্রার্থী নির্বাচনে “ধার্মিকতা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতা”কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় যেসব নাম

যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি, তবে দলীয় সূত্রে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: নুরুন্নেসা সিদ্দীকা; ফাতেমা আক্তার হ্যাপি; আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন; মারদিয়া মমতাজ; অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমীরের স্ত্রীসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের পরিবার থেকেও কিছু নাম আলোচনায় রয়েছে, যদিও নীতিগতভাবে বর্তমান সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়দের মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আসন বণ্টনের হিসাব

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জোটভিত্তিক বণ্টনে: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জোট পাবে ৩৬টি আসন; জামায়াত-এনসিপি জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবে ১টি আসন।

সংসদে আসনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী (প্রাপ্ত আসন × ৫০ ÷ ৩০০), এই বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ৫০টি আসন পূরণে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কারণে বিএনপি জোটকে একটি অতিরিক্ত আসন দেওয়া হয়েছে।

জোট রাজনীতি ও এনসিপির সম্ভাবনা

জামায়াত-এনসিপি জোটের ১৩টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ১২টি এবং এনসিপির ১টি আসন পাওয়ার কথা রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী এনসিপি একটি আসন পেলেও, জোটগত সমঝোতায় তারা আরও একটি আসন পেতে পারে—এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, জোটের পক্ষ থেকে দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেতে পারেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলীয় বৈঠকের মাধ্যমে।

অতীতের অভিজ্ঞতা

জামায়াতে ইসলামী অতীতে বিভিন্ন সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে- ১৯৯১ সালে ১৮টি সাধারণ আসন পেয়ে ২টি নারী আসন; ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেয়ে ৪টি নারী আসন; এবং ২০০৮ সালে কোনো নারী আসন পায়নি।

সার্বিক প্রেক্ষাপট

সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত না হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মাধ্যমে মনোনীত হয়। ফলে দলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যোগ্যতা, জোট সমঝোতা—সব মিলিয়ে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর—কারা শেষ পর্যন্ত এই ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে জায়গা পাচ্ছেন এবং নতুন সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কেমন হতে যাচ্ছে।

x

Check Also

টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কারের কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে: রিজভী

এমএনএ প্রতিবেদক বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, টিকাবিরোধী ...