এমএনএ সংবাদ ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্সের টাকা জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার উন্নয়ন ও গরীব মেধাবী ছাত্রদের জন্য ব্যয় করা হয় বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫ মাসপর দানবাক্সের টাকা গুণে মিলেছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা। এছাড়াও রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্স খুললে প্রতিবারই পাওয়া যায় কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা। তিন মাস পর পর দানবাক্স খুললেও এবার খোলা হলো ৫ মাস পর।
এ মসজিদে মানত করলে রোগ-বালাইসহ মনোবাসনা পুর্ণ হয়- এমন বিশ্বাসে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সকল ধর্মের মানুষ প্রতিনিয়ত মানত করে এখানে। দান করেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রা, ছাগল, হাস, মুরগীসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
মসজিদের ৮টি লোহার দানবাক্স থেকে এবার মিলেছে নগদ ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাসউদ জানান, শনিবার সকাল ১০টায় মসজিদের ৮টি দানসিন্দুক খোলা হয়। সিন্দুক থেকে কয়েকটি বস্তায় টাকা ভরা হয়। এরপর মেঝেতে রেখে শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ ও মাদ্রাসার ৬০ জন ছাত্র–শিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
তিনি আরো বলেন, এবার গণনা শেষে যে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গেছে, তা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালংকার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়েছে। এখানে ১০০ কোটির অধিক টাকা দিয়ে বড় আকারের একটি পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি বলছে, দানের এসব টাকা পাগলা মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এতিমখানাসহ গরীব ছাত্রদের মাঝে ব্যয় করা হবে।
জনশ্রুতি আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে মসজিদের কাছে আসেন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে গড়ে ওঠে মসজিদটি। কালক্রমে পরিচিত পায় পাগলা মসজিদ নামে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

