Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / স্ত্রীকে ছাড়বেন, তবু গোঁফ কাটবেন না এমন পণ ভাতারের গোঁফমাস্টারের
মানুষদের স্বপ্ন

স্ত্রীকে ছাড়বেন, তবু গোঁফ কাটবেন না এমন পণ ভাতারের গোঁফমাস্টারের

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : কথায় আছে, শখের তোলা আশি টাকা। আসলেও আমরা বুঝি তাই। সাধারণ মানুষদের স্বপ্ন আর শখ সবই হয়ে থাকে সাধারণ। আর অসাধারণ মানুষদের শখগুলোও যেন তাদের মতো। ঠিক যেমন পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বাসিন্দা দাশরথী ভট্টাচার্য। তিনি স্ত্রীকে ছাড়বেন, তবু গোঁফ কাটবেন না এমন পণ করেছেন। কি অবাক হচ্ছেন বুঝি? শুনে অবাস্তব মনে হলেও এটাই সত্যি।

তিনি নিজের স্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন, তার যদি ভালো না লাগে সে চলে যেতে পারে। কিন্তু তিনি গোঁফ কাটবেন না। কারণ তার গোঁফগুলো খুবই শখের। আর মানুষ শখের জিনিসের জন্য যা কিছু করতে পারে।

এই গোঁফ শুধু পরিচয় বহনকারী গোঁফ নয়, এ যে বড় সাধের গোঁফজোড়া। বাড়িতে তাই কাঁচি প্রবেশ নিষিদ্ধ। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বাসিন্দা দাশরথী ভট্টাচার্যর আশঙ্কা, হয়তো ঘুমের মাঝে তার সাধের গোঁফে কারও কুনজর পড়তে পারে। কেউ কেটে দিতে পারেন দীর্ঘদিন ধরে সযত্নলালিত গোঁফজোড়া।

তার স্ত্রী কতবার হাতেপায়ে ধরে সাধাসাধি করেছেন। কিন্তু নিজের প্রাণাধিক প্রিয় গোঁফ তার মুখমণ্ডল থেকে বিছিন্ন করতে পারেননি। তিন ফুট দীর্ঘ সাধের গোঁফ নিয়ে দিব্যি খোশমেজাজে থাকেন গোঁফমাস্টার দাশরথী ভট্টাচার্য। পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা দাশরথী ভট্টাচার্য। বয়স ৬০ বছর। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তার উপর মুখে পেল্লাই সাইজের গুম্ফ, যার এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তের দৈর্ঘ্য পাক্কা তিনফুট। তিনি একজন গৃহশিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি পৌরহিত্যের কাজও করে থাকেন দাশরথীবাবু। তার এই গোঁফের কারণে এলাকায় সবাই চেনেন গোঁফমাস্টার নামে।

গোঁফমাস্টার দাশরথীবাবু জানান, তার এই গোঁফ রাখার শখ সেই ছোটবেলা থেকেই। তার কথায়, ‘যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি, তখন এক পুলিশকর্মীর টাঙ্গি গোঁফ দেখেছিলাম। তখন থেকেই মনে মনে ঠিক করেছিলাম, আমিও ঐ রকম গোঁফ রাখব। তারপর গোঁফ গজানো শুরু হলে আর হাত দিইনি। তবে দু- একবার বাধ্য হয়ে গোঁফ কাটতে হয়েছিল আত্মীয় বিয়োগের কারণে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়।’

অবিবাহিত থাকাকালীন দাশরথীবাবুর এই গোঁফ নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীরা হাসিঠাট্টা করলেও হেসে উড়িয়ে দিতেন। তবে একটু চাপে পড়তে হয় বিয়ের পর। গোঁফমাস্টার বলছেন, ‘প্রথম প্রথম আমার স্ত্রীকে পাড়ার নারীরা পরামর্শ দিতেন, স্বামীর অমন বেঢপ গোঁফটা কাটাতে পারো না? সেজন্য স্ত্রীর সঙ্গে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হত।’

স্ত্রী রেণুকাদেবীর কথায়, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। তবে আমার স্বামী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি আমাকে ছাড়বেন, তবু গোঁফ কাটবেন না।’ একথা শোনার পর রেনুকাদেবী খানিকটা বাধ্য হয়েই স্বামীর শখ মেনে নিয়েছেন।

তবে গোঁফজোড়া রাখতে হলে তার তো পরিচর্যা চাই। সেটাও তিনি করেন বইকী। তিন ফুটের গোঁফের পরিচর্যার জন্য দাশরথীবাবু ব্যবহার করেন সরিষা ও নারকেল তেল। এর বাইরে কোনো বাজারের তেল ছোঁয়ান না। তবে এখনও দাশরথীবাবু কিছুটা আশঙ্কায় থাকেন, যদি তার সহধর্মিনী কারও প্ররোচনায় পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীর গোঁফে কাঁচি চালিয়ে দেন। তাই বাড়িতে কাঁচি রাখতেই দেন না তিনি।

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...