Don't Miss
Home / অর্থনীতি / জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন খাত
জিডিপি

জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন খাত

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে নতুন নতুন খাত যুক্ত করছে সরকার। বাণিজ্যিক ও আর্থিক গুরুত্ব বাড়ায় এসব নতুন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যেমন বাণিজ্যিকভাবে গরু, হাঁস-মুরগি পালন ও মাংস উৎপাদন এবং নার্সারি ব্যবসার বিকাশ ঘটার কারণে এগুলো জিডিপিতে নতুন খাত হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। কৃষি খাতেও এখন লটকন, ড্রাগন ও স্ট্রবেরি ফল এবং ক্যাপসিকাম, মাশরুম ইত্যাদি নতুন নতুন সবজির বাণিজ্যিক আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় জিডিপির নতুন ভিত্তিবছরে যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন করেছে সরকার। এখন থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে নতুন ভিত্তি বছর ধরে জিডিপিসহ অর্থনীতির সব হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এতদিন সেই ১৫ বছর আগের ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে এসব তথ্য প্রকাশ করা হতো। মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে জিডিপির গণনায় নতুন খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমন আরও কয়েকটি খাত জিডিপির নতুন ২০১৫-১৬ ভিত্তিবছরে যুক্ত করেছে বিবিএস।

প্রতিনিয়ত অর্থনীতির রূপ বদল হয়, শুরু হয় নতুন নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কিছু কিছু হারিয়ে যায়। তাই এক দশক পরপর জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন করার কথা ছিল, যাতে নতুন ভিত্তিবছর দিয়ে অর্থনীতি আরও বেশি নিখুঁতভাবে গণনা করা যায়, প্রকৃত তথ্য উঠে আসে। কিন্তু কোনোবারই নির্ধারিত সময়ে ভিত্তিবছর পরিবর্তন করা হয়নি। এবার ১৫ বছর পর পরিবর্তন করা হলো।
২০১৫-১৬ অর্থবছরকে নতুন ভিত্তিবছর নির্ধারণ করায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে গেলেও সার্বিক বিবেচনায় অর্থনীতির আকার বেশ বেড়েছে; বেড়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয়।

নতুন ভিত্তিবছর অনুযায়ী, চলতি মূল্যে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৪০৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৭০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৯ হাজার ২২০ কোটি টাকা।বিবিএস প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে হিসাব কষে বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা আগের ভিত্তি বছরের (২০০৫-০৬) হিসাবে পাওয়া ৩০ লাখ ১১ হাজার ১০০ টাকার চেয়ে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

নতুন ভিত্তিবছরের (২০১৫-১৬) হিসাবে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫৫৪ ডলার, পুরনো ভিত্তিবছরের হিসাবে যা ছিল ২ হাজার ২২৭ ডলার।এক যুগ আগেও এ দেশে মোবাইল ব্যাংকিং ছিল না; কিন্তু এখন তা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথমবারের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে, যা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। মোবাইল ব্যাংকিং তথা মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক গড়ে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক এখন ৭ কোটির বেশি। এই খাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। ফলে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে খাতটি। অথচ জিডিপি গণনায় ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছরে মোবাইল ব্যাংক খাতটি ছিল না। তাই নতুন ভিত্তিবছরে (২০১৫-১৬) তা যোগ করেছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মতো এজেন্ট ব্যাংকের যাত্রাও শুরু হয় এক দশক আগে। তাই আগে এজেন্ট ব্যাংকিং অর্থনীতিতে কী পরিমাণ অবদান রাখছে, তা জিডিপি গণনায় নিখুঁতভাবে আসত না। এবার এজেন্ট ব্যাংকও যুক্ত হয়েছে। দেশে ১৪ হাজার এজেন্ট ব্যাংক আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবমতে, এজেন্ট ব্যাংকে আমানতের স্থিতি ২০ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।বাণিজ্যিকভাবে গরু-হাঁস-মুরগি পালন ও মাংস উৎপাদন এবং নার্সারি ব্যবসার বিকাশ ঘটায় এগুলো জিডিপিতে নতুন খাত হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে।

কৃষি খাতেও এখন লটকন, ড্রাগন ও স্ট্রবেরি ফল এবং ক্যাপসিকাম, মাশরুম ইত্যাদি নতুন নতুন সবজির বাণিজ্যিক আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় জিডিপির নতুন ভিত্তিবছরে যুক্ত করা হয়েছে। জিডিপি আরও বেশি নিখুঁতভাবে গণনায় কেবল টেলিভিশন, ইন্টারনেট ব্যবসাসহ নতুন কয়েকটি খাতকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া হেলিকপ্টার সেবাও যুক্ত হয়েছে জিডিপিতে।

x

Check Also

বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ আসছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ বা নেতিবাচক ...