Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / মোনাজাত উদ্দিন : তৃণমূলের এক ব্যতিক্রমী সংবাদকর্মী
সাংবাদিকতায়

মোনাজাত উদ্দিন : তৃণমূলের এক ব্যতিক্রমী সংবাদকর্মী

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : সাংবাদিকতায় যেন একটু ব্যতিক্রমী ছিলেন তিনি। খবরের পেছনে থাকা খবর সংগ্রহ করে লিখতেন খবরের কাগজে। যা ছিল দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা। তিনি চষে বেড়িয়েছেন উত্তরবঙ্গের মাঠের পর মাঠ, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ছুটে গেছেন শেকড়ে থাকা ঘটনা সংশ্লিষ্ট মানুষটির সন্ধানে। কথা বলেছেন গণমানুষের সঙ্গে। একেবারে শেকড় থেকে তিনি সৃষ্টি করেছেন সংবাদ ভাষ্য, প্রতিবেদন, ফিচার। এই জন্য তিনি সবার কাছে চারণ সাংবাদিক। বলছিলাম সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের কথা। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের একটি স্মরণীয় নাম মোনাজাত উদ্দিন। তার ২৬তম প্রয়াণ দিবস আজ।শুধু সাংবাদিক নন তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান।  তথ্যানুসন্ধানী এই সংবাদকর্মী তার সাংবাদিক জীবনে নানা মাত্রিকতার রিপোর্ট করেছেন। পাশাপাশি লিখেছেন জীবনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ নানা ঘটনা।রংপুরের কৃতি সন্তান সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন। মূলত তিনি দৈনিক সংবাদে পথ থেকে পথে ধারাবাহিক রিপোর্টের জন্য খ্যাতি লাভ করেন।

মোনাজাত উদ্দিন এর সাংবাদিকতা শুরু ১৯৬৬ সালে তিনি দৈনিক আজাদ পত্রিকা দিয়ে। এরপর নিজের প্রকাশনায় দৈনিক রংপুর প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের মার্চে স্বাধীন চিন্তা, বিশ্বাস আর আদর্শের ভিত্তিতে প্রকাশ করেন ‘দৈনিক রংপুর’। শুধুমাত্র স্থানীয় সংবাদের ভিত্তিতে তিনি এই পত্রিকাটি বের করার চিন্তা করেন। ‘দৈনিক রংপুর’ ছিল মিনি সাইজের পত্রিকা, দাম মাত্র পাঁচ পয়সা। পত্রিকাটি প্রকাশের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করতেন একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। জানা যায়, বাহ্যিকভাবে সেই ব্যবসায়ীকে সৎ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি তা ছিলেন না। যে কারণে তার সঙ্গে মোনাজাত উদ্দিনের সম্পর্কের ইতি ঘটে। অবধারিতভাবেই পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু লেখালেখির সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটেনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত।

১৯৭৬ সালে দৈনিক সংবাদে যোগ দেয়ার পর থেকে তিনি মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন পত্রিকাটির সাথে। বিশ বছর একটানা ‘সংবাদ’ এ কাজ করার পরে ১৯৯৫ সালের ২৪ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেনদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে চিরবরণীয় মোনাজাত উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীতকাজের নিষ্ঠতার জন্য অনেক সম্মাননাও পেয়েছিলেন তিনি। মোনাজাত উদ্দিন ১৯৮৪ সালে ‘সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী স্মৃতি পদক’, দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত ‘মানুষ ও সমাজ’ প্রতিবেদনের জন্য সালে ফিলিপস্ পুরস্কার, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স পুরস্কার, ১৯৯৫ সালে অশোকা ফেলোশিপ লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদক একুশে পদক (মরনোত্তর) লাভ করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও অংশগ্রহণ ছিল তার। গ্রামীণ এলাকায় মানুষের কুসংস্কার, অন্ধতা দূর করতে তিনি তরুণদের নিয়ে সংগঠন করেছেন। কখনো তাদের নিয়ে নাটক করিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে। তিনি নিজেও ছিলেন একজন গীতিকার ও নাট্যকার। রংপুর বেতারে নিয়মিত কাজ করতেন। তার একাধিক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। যদিও চারুশিল্পে তার তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না কিন্তু নিজের অধ্যাবসায়ের ফলে তিনি অনেক বই ও ছোট কাগজের প্রচ্ছদ করেছেন। ছিলেন দক্ষ ফটোগ্রাফারও। রিপোর্টিং ছাড়াও গল্প, কবিতা, ছড়া ও নাটক রচনায় তার দক্ষতা ছিল। মৃত্যুর আগে নয়টি ও পরে দুইটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার। পাশাপাশি লিখেছেন জীবনের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ নানা ঘটনা।

১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ফুলছড়ি থানাধীন যমুনা নদীতে কালাসোনার ড্রেজিং পয়েন্টে দু’টি নৌকাডুবির তথ্যানুসন্ধান করতে অসুস্থ শরীর নিয়ে যাত্রা শুরু করেন গাইবান্ধায়। যাবার পথে ‘শেরেবাংলা’ নামক ফেরিতেই তিনি দুর্ঘটনার মুখে পতিত হন। ফেরির ছাদ থেকে হঠাৎ করেই পানিতে পড়ে যান। স্থানীয় নৌকার মাঝিরা তাঁর দেহ তাৎক্ষনিকভাবে উদ্ধার করতে পারলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ধারণা করা হয়, পানিতে পড়ার সাথে সাথেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ৩০ ডিসেম্বর রংপুর শহরের মুন্সী পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।তিনি তার কর্মের মাধ্যমেই অমর হয়ে আছেন আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

তার এই অকাল মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে ওঠে পুরো বাংলাদেশ। ৩০ ডিসেম্বর তাকে রংপুর শহরের মুন্সী পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন জনগণের সাংবাদিক। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং পেশায় সফল এক নাম মোনাজাত উদ্দিন, দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে চিরবরণীয় হয়ে থাকবেন।

x

Check Also

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়কদের হাতে তুলে দেয়া হলো ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’

খেলাধুলা প্রতিবেদক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে একসঙ্গে এত সাবেক অধিনায়কের ...