Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / নির্বাচন কমিশন আইন : ভালোমন্দ সবই আছে
এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আ

নির্বাচন কমিশন আইন : ভালোমন্দ সবই আছে

এমএনএ জাতীয় ডেস্ক : স্বাধীনতার ৫০ বছর পর বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইন সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আইন পেল জাতি। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ষোড়শ অধিবেশনে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ পাস হয়। আর আইন নিয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা মিশ্রপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে ভালোমন্দ সবই আছে। তবে এক আইন দিয়েই মূল সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য দরকার রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস ও আস্থা। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা ভালো বলবে আর বিরোধী দলে থাকলে খারাপ বলবে- এই সংস্কৃতি থেকে বেরোতে হবে।

বিলে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি এ আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশের উদ্দেশ্যে ছয় সদস্যের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন। কমিটিতে থাকবেন- প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক, যিনি এর সভাপতিও হবেন। প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক।

বিলে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি তাদের সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতায় বলা হয়েছে- তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তার বয়স হতে হবে ন্যূনতম ৫০ বছর। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধাসরকারি বা বেসরকারি পদে অন্যূন ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেফারুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, দেশে একটি আইন হয়েছে এটাই বড় কথা, ভালো জিনিস। এতে ভালোমন্দ থাকবেই। এখন আইনের প্রয়োগ আরেক বিষয়। বাংলাদেশে আইনের প্রয়োগ নিয়ে আলাদা করে বলার নাই। মোদ্দাকথা বলতে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, আইনে কমিশনার নিয়োগে যে যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে তাতে নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের মাপকাঠি নেই। নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে- তা এই আইন দিয়ে বিবেচনা করা যাবে না। এই আইনে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে তো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে মূল বিষয় হলো আইনের স্পিরিট। তা ইতিবাচক আশা করা হবে দুরূহ।

ইফতেফারুজ্জামানের মতে, যে দল সরকারে থাকে তারা আইন পাস করে বাহবা পেতে চাইবে। আর বিরোধী দল তা ভালো হলেও খারাপ বলবে। এটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এখন আইনের কার্যকারিতাই বড় প্রশ্ন মন্তব্য করে নির্বাচন বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শলাপরামর্শ ছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠন হবে না। অন্য দেশে থাকলেও ইসি গঠনে সংসদের বিরোধী দলগুলোর কোনো ভূমিকা থাকবে না। আমার মতে, আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আইনটি হয়েছে। সুতরাং এখানে তর্কবিতর্ক থাকছেই। তবে কমিশন গঠন আইনে বয়সের যে মাপককাঠির কথা বলা হয়েছে তা ঠিকই আছে বলে তিনি মনে করেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, নির্বাচন কমিশন আইন গঠন করে সমাধান সম্ভব নয়। শত আইন হলেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করা যাবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বিভাজনের রাজনীতিকে দোষারূপ করেন। এই বিশ্লেষক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা যেই অর্থে নির্বাচন চাই তা তখনই সম্ভব যখন বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা থাকে। আমার মতে সমস্যা তো নির্বাচন কমিশন নিয়ে নয়। আস্থাহীনতাই বড় সমস্যা। তবে এটি বাংলাদেশেই নয়, ইদানীং সবখানেই বিরাজ করছে। আমেরিকার মধ্যেও দেখছি ট্রাম্প-বাইডেনের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। ভারতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা বিরোধী দলে থাকেন, তারা নির্বাচন ভালো বলবে না। কারণ বিভাজন তৈরি হয়েছে সবখানে। আমরা বিশ্লেষক থেকে শুরু করে গণমাধ্যম সবখানে বিভাজনের পালা চলছে। এ থেকে বের হতে হবে। আইন থাকা ভালো তবে সমাধান নেই।

আর একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র আইনজীবী শাহদিন মালিক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের চাপে সরকার এই আইন করেছে। তবে তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তা বলা যাবে না। সরকার যাদের চায় তাদের নামই উঠে আসবে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। আসছে কমিশনের ওপর ইতোমধ্যে জনগণের আস্থা কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে। বাকি কার্যকলাপ না দেখেই বলা যাচ্ছে।

সরকার বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি উল্লেখ করে শাহদিন মালিক এই আইনকে আগামী নির্বাচনে ‘কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিকরণ আইন’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, সার্চ কমিটি হয়েছে সরকারের অনুগ্রহপ্রাপ্ত লোকদের নিয়ে। সরকারের প্রভাবমুক্ত হয়নি। জনগণের কাছেও নামগুলো জানায়নি। গোপনে করা মানেই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রী যাদের অনুমোদন দেবেন তারাই নির্বাচন কমিশনে থাকবেন।

x

Check Also

প্রবীণ সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবসর ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, দেশের প্রবীণ সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ...