এমএনএ রাজনীতি ডেস্ক : দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রুখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সরকারের পক্ষ থেকে ল’ ফার্ম ও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা, খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথিত অভিযোগ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে জ্বালাও-পোড়াও করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, কিছু এনজিওর বিদেশি তহবিল নিয়ে মনিটরিং করা এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। ফলে দেশে অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। গত ১৩ বছর দেশে স্থিতিশীল বজায় রাখার কারণে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল দেশের উন্নয়নে হিংসার বশবর্তীর হয়ে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কারা করছে সে বিষয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু ইঙ্গিত দেন।
এদের মধ্যে রয়েছে- সাজাপ্রাপ্ত পলাতক তারেক জিয়া, বরখাস্ত হওয়া কিছু সেনা কর্মকর্তা, যুদ্ধাপরাধী ও ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত পলাতক কিছু মিডিয়াকর্মী। এরা দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও অসত্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচারে তারা একদিকে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ডিজিটাল প্লাটফর্মের সুবিধা নিয়ে এই মহলটি দেশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, খুন ও গুমের কাল্পনিক অভিযোগ তুলছে। যা দেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের অরাজকতা, বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে এলেই তারা বেশি করে অপপ্রচার চালায়। যারা যেসব দেশে বসে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে সেই দেশের প্রচলিত আইনে তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।
সভায় র্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৬ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে এ ধরনের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। আগামী ২০২৩ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে আবারও অশুভ তৎপরতা শুরু হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্রসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশ^নেতাদের অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঢাকাস্থ বিদেশি মিশনগুলোকে জানানোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সভায় র্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৬ কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব রটিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বিবিধ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট অন্য এক সূত্রে জানা গেছে। যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেককে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আপিল করতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ল’ ফার্ম ও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের পাশাপাশি বিজেএমইএ ও বিকেএমইএকে লবিস্ট নিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়াও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, মালয়েশিয়া ও দুবাই বসবাসরত সুশীল সমাজকে এক হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, প্রকৃত তথ্য বাংলাদেশস্থ বিদেশি মিশনকে অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা শেষে সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, দেশে ও বিদেশে বসে যারা অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আইন, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে। র্যাবের কর্মকর্তাদের কালো তালিকা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এই টাস্কফোর্সে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা অধিদফতর, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বাড়ানো হবে। খুন-গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথিত অভিযোগ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য বাংলাদেশস্থ বিদেশি মিশনগুলোকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য তুলে ধরা হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হিউম্যান রাইট ওয়াচ, অধিকার, আইন সালিশ কেন্দ্র ও ব্লাস্টসহ কিছু এনজিওর বিদেশি তহবিলের বিষয়ে নিবিড় মনিটর করা হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের যেন কোনো ধরনের অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার বন্ধ করতে দুটি মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা বন্ধ করার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।সভায় করোনা সংক্রমণ নিয়ে বিশদ আলোচনার পর সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

