এমএনএ রাজনীতি ডেস্কঃ আগামী ২৭ জুলাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে উত্তাপ, উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ঘেরাও, পদযাত্রা ও বড় সমাবেশের মতো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিতে চাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু মাঠে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, সেই চিন্তাও রয়েছে দলটিতে।
মহাসমাবেশে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বাধা এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে, সেই আশঙ্কাও করছেন বিএনপির নেতারা। তবুও রাজপথ দখলে রাখতে ‘চূড়ান্ত লড়াই’-এর দিকে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিরোধীদের মহাসমাবেশের দিনই ঢাকায় পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ফলে এই দিন বড় দুটি রাজনৈতিক দল তাদের শক্তির মহড়া দিবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২৭ জুলাই বিএনপি ছাড়াও যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণফোরাম-পিপলস পার্টি, এলডিপি, লেবারপার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যসহ বিরোধী বিভিন্ন জোট নিজ নিজ প্ল্যাটফর্ম থেকে এ কর্মসূচি পালন করবে। এর আগে বিএনপি গত ১২ জুলাই সরকার হটাতে ‘এক দফা’ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশের নতুন এ কর্মসূচি নিয়ে এল বিএনপিসহ জোটগুলো।
এদিকে ২৭ জুলাই নয়াপল্টনে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করতে চায় বিএনপি। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখিত দুটি স্থানের যেকোনো একটিতে মহাসমাবেশ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে বিএনপি। অবশ্য মহাসমাবেশ করার জন্য বিএনপিকে এখনও জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়নি ডিএমপি। একই দিন ‘শান্তি সমাবেশ’ করবে আওয়ামী লীগের ৩ সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। বিএনপি-জামায়াতের ‘নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, অতীতে দলটির বড় কর্মসূচি ঠেকাতে সরকারি দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির উদাহরণ রয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখে পুলিশি তল্লাশি, আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধসহ ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ার নজির রয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার কী ধরনের আচরণ করা হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে অযাচিত বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর থেকে মাঠ প্রশাসনের আচরণে অনেকটাই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
অপরদিকে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার সমঝোতার তাগিদ দেয়া হলেও সে পথে হাঁটছে না কেউ। ইতোমধ্যে শোডাউনের জবাবে পাল্টা শোডাউনে দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে লক্ষীপুর ও নড়াইলে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির মহাসমাবেশের দিন রাজধানীতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ গরম হওয়াই স্বাভাবিক। তবে সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। যদিও পূর্বঘোষিত যুবলীগের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গতকাল সোমবার ২৪ জুলাই। অবশ্য সিদ্ধান্ত কিছুটা পরিবর্তন করে ‘শান্তি সমাবেশ’ নাম দিয়ে যুবলীগের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগকেও মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাজধানীতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন। এরপর ২৩ জুলাই রবিবার দুপুরে যুবলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভাগীয় কর্মসূচি ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশ ২৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী ২৭ জুলাই ধার্য করা হয়।
ওদিকে একই দিনে এমন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মাঠের দখল ধরে রাখার কৌশলে নেমেছে দুপক্ষ।
অপরদিকে ২৭ জুলাইয়ের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা করছে বিএনপি।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যুবলীগের কর্মসূচি ছিল ২৪ জুলাই। আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করার পর যুবলীগ তাদের কর্মসূচি ২৭ জুলাইয়ে নিয়ে গেছে। সংঘাতপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করতে তারা এটা করেছে, তা পরিষ্কার। কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির ২৭ তারিখের সমাবেশ ঘিরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন সংঘাতের আশঙ্কা নেই। কোনো উসকানি আওয়ামী লীগ দিবে না। কিন্তু কেউ যদি করে তখন জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিবে আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি সোমবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের শিক্ষা ও মানব সম্পদবিষয়ক উপকমিটির পরিচিতি সভায় এ কথা বলেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

