Don't Miss
Home / জাতীয় / দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের মধ্যদিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে এরইমধ্যে। ভোটের মাঠ দখলে নিয়েছে সশস্ত্রবাহিনীসহ আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনিয়ম-সংঘাত ঠেকাতে তাৎক্ষণিক বিচারে মাঠে নেমেছেন বিচারকরাও। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটগ্রহণের। আজ শনিবার থেকে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল রবিবার সারাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২৭টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে এক হাজার ৯৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারাদেশে দলীয় প্রতীক ও স্বতন্ত্র থেকে নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারাদেশে মোট ৯০ জন নারী প্রার্থী ভোটে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে ৭৯ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থী ভোটে লড়াই করছেন। নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মিলিয়ে মোট ১৬৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আজ ব্যালট যাবে ২৯৬৪ কেন্দ্রে, ৩৯ হাজার ৬১ কেন্দ্রে যাবে কাল: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগের দিন ২ হাজার ৯৬৪ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ভোটের দিন সকালে ৩৯ হাজার ৬১ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার যাবে। এবার সংসদ নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ৪২ হাজার ২৫টি। সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইসি। ইসি জানায়, ব্যালট পেপারের অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ভোটগ্রহণের দিন সকালে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার প্রেরণের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য জেলা, উপকূলীয় এলাকা, দ্বীপ, চর অঞ্চল, নদী পরিবেষ্টিত দুর্গম এলাকা বিবেচনায় পরিশিষ্ট-ক তালিকায় বর্ণিত ২ হাজার ৯৬৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের পূর্বের দিন নির্বাচনী মালামালসহ ব্যালট পেপার প্রেরণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
ঘরে বসেই মিলবে ভোটার নম্বর: ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামের অ্যাপ থেকে ভোটার নম্বর, কেন্দ্রের নাম ও লোকেশন, ভোটের হার, প্রার্থীদের হলফনামাসহ নির্বাচনের বিভিন্ন তুলনামূলক চিত্র ঘরে বসেই জেনে নেয়া যাবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যে অ্যাপটি আমরা উদ্বোধন করেছিলাম, সেখানে কেন্দ্রভিত্তিক দুই ঘণ্টা পরপর ভোট পড়ার হার জানা যাবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের তথ্য এখনই জানা যাচ্ছে। যে কোনো ভোটারের ভোটকেন্দ্র কোনটি এবং লোকেশন কোথায় জানা যাচ্ছে। অ্যাপটি ফোনে গুগল এন্ড্রয়েড ও আইওএস থেকে ইনস্টল করা যাবে। অ্যাপটি ব্যবহার করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জš§ তারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।

দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত পুলিশ বাহিনী: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। গতকাল শুক্রবার কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ বাহিনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য পুলিশ বাহিনী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি সদস্যকে আমরা ব্রিফ করেছি তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে। আমরা সবার সহযোগিতায় প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন করেছি। আমরা সারা দেশের ৪২ হাজার ২৫টি ভোটকেন্দ্র নিরাপদ রাখতে কাজ করে যাব। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতার চেষ্টা করলে এর ফল ভালো হবে না। আমরা তাৎক্ষণিক নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমি দেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং প্রশাসন সবাই মিলে সাফল্যমণ্ডিত নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে কেউ যদি কোনো সুযোগ নেয়, তাহলে কঠোরভাবে তাদের দমন করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সকল কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখেছি। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকলে একসঙ্গে একযোগে কাজ করছি। স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার ও সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে এক প্ল্যাটফর্মে এসে কাজ করছি।

থাকছে বিজিবির র‌্যাট-ডগ স্কোয়াড-হেলিকপ্টার: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। তিনি জানান, সারাদেশে বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট), ডগ স্কোয়াড কাজ করছে। এছাড়া, আমাদের কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত আছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই টিমের সদস্যদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে স্থাপিত বিভিন্ন নির্বাচনী বেজ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান তিনি। মিরপুরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীসহ সারাদেশে এক হাজার ১৫৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের মোতায়েন করা জনবল সারাদেশে ৪৮৭টি বেজ ক্যাম্প থেকে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবির ৭০০ পেট্রোল দিন-রাত টহল দিচ্ছে। নাশকতা প্রতিরোধ তথা জনগণের জানমাল রক্ষায় বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাঠে নামছে ৫ লাখ আনসার-ভিডিপি: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্র ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারাদেশে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ১৪৩ জন সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরে আয়োজিত নির্বাচনী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ৪২ হাজার ১৪৯টি ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা রক্ষায় পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৭৮৮ জন সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২৫০ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য এক হাজার সেকশনে ভাগ হয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। উপকূলের ১৩টি উপজেলা ছাড়া সব উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি করে স্ট্রাইকিং টিম নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই হাজার ৮৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।

মাঠে দাপাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী: ভোটের মাঠে গত ৩ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছে সশস্ত্র বাহিনী। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮ দিন মাঠে থাকবে তারা। ইসি জানায়, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য আদেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

কাজ শুরু করেছেন বিচারিক হাকিমরা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে গতকাল শুক্রবার থেকে মাঠে নেমেছেন ৬৫৩ বিচারিক হাকিম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, বিচারিক হাকিমরা ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। ইসির আইন শাখার যুগ্ম সচিব মো. মাহবুবার রহমান সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট পেপার ধ্বংস করা, ব্যালট বক্স ছিনতাই, ভোটদানে বাধা দেয়া বা বাধ্য করা, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশকে ভোটের উপযোগী না রাখা, এসব অপরাধের তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করতে পারবেন তারা। তিন থেকে সাত বছরের দণ্ড দিতে পারবেন।

কোন দলের কত প্রার্থী: নির্বাচন কমিশন জানায়, এবার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৬৬ জন, এরপরই রয়েছে জাতীয় পার্টির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের ৩৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ৪২ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা-লীগের ৩০ জন, গণফোরাম নয়জন, গণ-ফ্রন্টের ২১ জন, জাকের পার্টির ২১ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ১৩ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৬৬ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের দশজন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৫ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৬ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির পাঁচজন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ৩৮ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) পাঁচজন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের ৪৫ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের চারজন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ৭৯ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ৬৩ জন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির ২৬ জন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) চারজন, গণতন্ত্রী পার্টির দশজন। ২৮টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৪ জন। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ৪৩৬ জন। মোট প্রার্থীর মধ্যে ৭৫ জন হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

প্রার্থী ও ভোটার: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১৪৯টি। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩০০টি ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) বলে ইসি থেকে জানা গেছে। ইসি জানায়, দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে নারী ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন, পুরুষ ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮৫২ জন।

নামছেন দেশি-বিদেশি ২১ হাজার পর্যবেক্ষক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন দেখার জন্য যে বিদেশিরা আবেদন জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ১৮৬ জন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে ১২৭ জন পর্যবেক্ষক আর ৫৯ জন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মী। এ ছাড়া, নির্বাচন দেখতে দেশি ২০ হাজার ৭৭৩ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ৫১৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৮৪টি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করবে।

নির্বাচনের ব্যয় প্রায় ২৩শ কোটি টাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৩শ কোটি টাকা। এ নির্বাচনে আসনপ্রতি ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশাল এ বাজেটের বেশিরভাগ অর্থই ভোটের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে ব্যয় হবে। ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাজেট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৫৪ কোটি ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এই ব্যয়ের তিন ভাগের দুই ভাগই রাখা হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

নির্বাচনে ২২ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন: নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ২২ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই মনিটরিং সেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইডিএ প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম।

এই সেল নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মনিটরিং সেল আগামী ৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা পরিচালনা করা হবে।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...