Don't Miss
Home / জাতীয় / নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তাপ: ঋণখেলাপি মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
ডা. শফিকুর রহমান

নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তাপ: ঋণখেলাপি মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

এমএনএ প্রতিবেদক

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঋণখেলাপি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রায়ই দাবি করে—ক্ষমতায় গেলে তারা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবে। তবে সেই দলের পক্ষ থেকেই ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য বানিয়ে দুর্নীতি দমনের কথা বলা জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

বক্তব্যে তিনি ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণ-আকাঙ্ক্ষার তুলনা টেনে বলেন, ২০২৪ সালে যুবসমাজের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন করা হয়েছিল। তার ভাষায়, “৩৬ জুলাই, অর্থাৎ ৫ আগস্ট জাতি আওয়ামী জাহেলিয়াত থেকে মুক্তি পায়।” তবে মুক্তির পরদিন থেকেই একটি অংশ চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না।”

ব্যবসায়ী সমাজকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করা কিছু ব্যক্তি দেশে ফিরে শত শত কোটি টাকা দাবি করে হত্যা মামলা দিচ্ছেন। এমনকি ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, পুরোনো চাঁদাবাজের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজ তৈরির জন্য কি এই আন্দোলন হয়েছিল?

ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রক্তের ঋণ শোধ করার দিন। তরুণ সমাজ পুরোনো ও অকার্যকর রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে নয়, কাজের সুযোগ তৈরি করেই যুবসমাজকে এগিয়ে নিতে চান তারা।

১০ টাকা কেজি চালসহ বিভিন্ন ‘কার্ড’নির্ভর প্রতিশ্রুতিকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে এসব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ঘোষণাও দেন।

জনসভায় তিনি আরও ঘোষণা করেন, জনগণ ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দিলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। তরুণদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ নেতারা পেছনের আসনে থেকে তরুণদের পথ দেখাবেন।

সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। জনসভায় এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

x

Check Also

আমদানির কারণে আমনের দরপতনে বোরো নিয়েও শঙ্কা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশ থেকে চাল আমদানির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুম শেষে আমন ধানের দামে ...