এমএনএ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সকালে সেগুনবাগিচা হাইস্কুল ও বেগম রহিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ছয়টি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নারী ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেগুনবাগিচা হাইস্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, সকাল আটটার পর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের দুটি কেন্দ্রে ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। প্রতি ৪০০ ভোটারের জন্য একটি বুথ থাকায় ভিড় বা ধীরগতি দেখা যায়নি। কেন্দ্র প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। প্রিজাইডিং অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, ভোটাররা ঝামেলা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারছেন।
সকাল নয়টার দিকে ঢাকা কলেজের চারটি কেন্দ্রেও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার আয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গণকটুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তুলনামূলক বেশি ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে, তবে শৃঙ্খলা বজায় ছিল।
বেশিরভাগ কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পোলিং এজেন্টদের সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি যাচাই করে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কিছু কেন্দ্রে সিসিটিভি না থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা ভোটারদের আস্থা বাড়িয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল এবং কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
ঢাকা-৬ আসনে দুই ঘণ্টায় ৯.৪২ শতাংশ ভোট
ঢাকা-৬ আসনের টিকাটুলির কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় ৩৪৮ ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটারের ৯.৪২ শতাংশ। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন জানান, মোট ৩৩৩৭ জন ভোটারের মধ্যে এ সময়ে ২০১ জন পুরুষ ও ১৪৭ জন নারী ভোটার ভোট দিয়েছেন।
ঢাকা-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন, নারী ১ লাখ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। এ আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ধানের শীষ), জামায়াত জোট মনোনীত মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল), গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ (মাছ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইউনুস আলী আকন্দ এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-র মো. ফখরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারী কেন্দ্রে তিন ঘণ্টায় ৩১৬ ভোট
পল্টনের বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফবিএবি) নারী ভোটার কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২৮০৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩১৬ জন ভোট দিয়েছেন। ছয়টি বুথে যথাক্রমে ৫৮, ৪৯, ৫৩, ৫০, ৬৮ ও ৩৮ জন ভোট প্রদান করেন।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. সামিউল ইসলাম জানান, নারী ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছেন।
সার্বিকভাবে বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর পরিদর্শিত কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ভোটগ্রহণের চিত্র দেখা গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটাররা দুটি ব্যালটপেপারে ভোট দিয়ে একই ব্যালট বাক্সে ফেলছেন। ফলে ভোট গণনায় ব্যালট আলাদা করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

