Don't Miss
Home / রাজনীতি / খালেদা জিয়ার মতো অতিথি ভবন যমুনায় উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও
অতিথি ভবন যমুনা

খালেদা জিয়ার মতো অতিথি ভবন যমুনায় উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও

এমএনএ প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, হেয়ার রোড, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’এর সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিরাপত্তা এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও হেয়ার রোডে অতিথি ভবন যমুনায় থেকেই তার প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ শেষ করেছিলেন। তবে বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে তাকে ২৯ মিন্টো রোডে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি সেখানে উঠেননি, থাকতেন সেনানিবাসে মঈনুল রোডের বাসভবনে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, তারা বুধবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শেষ করেছে।

বর্তমানে যমুনায় সেখানকার সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবস্থান করছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, তিনি আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি যমুনা ত্যাগ করবেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী সোমবার জানান, “প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এ মাসেই বাসা ছাড়বেন। কিছু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী এখানে উঠবেন।”

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকা বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমা এবং অন্যান্য কারণে এগুলো শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানস্থ নিজস্ব বাসায় থাকছেন এবং সেখান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি রমজান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে ইফতার ও অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় করার পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কারণে দ্রুত যমুনার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।

যমুনা, হেয়ার রোড ৩০ নম্বরে, প্রায় সোয়া তিন একর আয়তনের। পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোতে বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা যমুনা ত্যাগ করলে এই বাংলোগুলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ থাকবে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গণভবন ভাঙচুরের কবলে পড়ে। এরপর এটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর থাকার সুযোগ নেই।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কোথায় থাকবেন তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল। গত ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ২০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটি প্রস্তাব করেছিল, যমুনা ও হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকে সমন্বিত পরিকল্পনায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঢাকার হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকাগুলো ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণের মাধ্যমে সরকার গঠন হয়।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কিছু বাসায় সংস্কারকাজ বাকি থাকায় তারা ঈদুল ফিতরের পরই বসবাস শুরু করতে পারবেন।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দ

  • স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর – ৩৫ হেয়ার রোড

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ – ২৪ বেইলি রোড

  • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) – ৫ হেয়ার রোড

  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন – ২৫ বেইলি রোড

  • ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ – ৭ মিন্টো রোড

  • ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু – ২ মিন্টো রোড

  • সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী – ৫ মিন্টো রোড

  • আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান – ১ হেয়ার রোড

  • পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি – ৬ হেয়ার রোড

  • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা – ১ মিন্টো রোড

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন – ৪ মিন্টো রোড

  • শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন – ৩৪ মিন্টো রোড

  • ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম – ৪১ মিন্টো রোড

  • প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ – ২ হেয়ার রোড

  • অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী – গুলশান

  • শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী – গুলশান

  • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম – ধানমন্ডি

প্রতিমন্ত্রীদের হেয়ার রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো তিনটি দশতলা ভবন নিয়ে গঠিত, প্রতিটি ভবনে ১০টি করে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

x

Check Also

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা, জোট ও স্বতন্ত্রদেরও মনোনয়ন চূড়ান্ত

বিশেষ প্রতিবেদক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনের মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। ...