এমএনএ প্রতিবেদক
বিএনপি সরকার আদালতকে ব্যবহার করে জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে দলটির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অবিযোগ করেন।
এসময় দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আদলতে যা হচ্ছে, সেই শঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এটা স্পষ্ট যে কারা এর পেছনে। গণঅভ্যুত্থানের পূর্বেও জনগণকে আদালতের মুখোমুখি করা হয়েছে।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এর মাধ্যমে বিএনপি নিজের সরকারের বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই রায় হলে এই সংসদও বাতিল হতে পারে। কারণ এই একই আদেশের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে বিএনপি সিলেক্টিভ সংস্কার করার মাধ্যমে ৭২’ এর সংবিধানকে রক্ষা করার লড়াই চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন জনগণের সরকার এই সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলবে। কিন্তু তার সন্তান এই সংবিধানকে রক্ষা করছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এখনো জনগণের সংস্কার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর এগুলোকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা, মীমাসিংত বিষয় নিয়ে আদালতে যাওয়া একটা ন্যাক্কারজনক নজির হয়ে থাকল।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ ও আদালতকে মুখোমুখি করার একটা প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। জুলাই সনদ জনগণের অভিপ্রায় এর অভিব্যক্তি। সেখানে বিএনপিও সাইন করেছে। জনগণের অভিপ্রায় রক্ষা করা আদালতের কাজ। কিন্তু এই রিটের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল আদালত ও জনগণকে মুখোমুখি করছে।’
সারোয়ার তুষার বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম গণভোট নির্বাচনের আগে হোক। বিএনপি বলেছিল নির্বাচনের দিন গণভোট হলে একই অর্থ বহন করে। আমরা বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছি। কিন্তু মীমাংসিত রাজনৈতিক বিষয়কে জলঘোলা করলে তাদের নৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে এই জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে তাহলে ডেপুটি স্পিকার নিয়ে উদারতার প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে আপনারা বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করবেন না। এটাকে বাইপাস করতে চাইলে বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আজকের কোর্টে শুনানি দেখে স্পষ্ট যে এই রিটের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আছে।’
এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য জহিরুল হক মুসা বলেন, ‘গণভোট, জুলাই সনদ ও সংস্কার পরিষদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে রিট পিটিশন করা হলেও বিএনপির আইনজীবীরা দলীয়ভাবে শুনানিতে গণভোটের বিপক্ষে অংশগ্রহণ করেন। শুনানিতে তারা সংস্কার পরিষদের শপথ ও জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ করেছে।’
জহিরুল মুসা বলেন, ‘একটা পলিটিকাল ডকট্রিন ও জনগণের অভিপ্রায়কে আদালতের দরবারে টেনে নেওয়া হচ্ছে।’
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

