Don't Miss
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাবে জ্বালানি আতঙ্ক: রাজধানীর পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাবে জ্বালানি আতঙ্ক: রাজধানীর পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি

বিশেষ প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংগ্রহ করতে ভিড় করছেন যানবাহন চালকেরা।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও প্রায় একই অবস্থা দেখা যায়। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে হয়ে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত কয়েক লাইনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি প্রাইভেটকারের সারিও ছিল বেশ দীর্ঘ। সবাই সিরিয়াল ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক আশিকুজ্জামান চয়ন বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি তেল নিতে পেরেছেন। তবে তাকে মাত্র ৩০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হয়েছে।

আরেক মোটরসাইকেল চালক রাব্বি জানান, গত দুই দিন পাম্পে অতিরিক্ত ভিড় দেখে তিনি তেল নেননি। ভেবেছিলেন কয়েকদিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন নেবেন। কিন্তু বিভিন্ন পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর শুনে আজ বাধ্য হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, “আজ তেল না নিলে গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে হতো।”

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুক্রবার এক নির্দেশনায় একবারে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল প্রতি ট্রিপে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পরীবাগে একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সরকার কয়েকগুণ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করেছে এবং অনেক ক্রেতাই স্বীকার করেছেন যে তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। এ ধরনের আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কিছু চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যতটা সম্ভব দাম না বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তবে প্রয়োজনে বিষয়টি জনগণকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেছেন এবং জনগণকে প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিপিসি।

x

Check Also

কর কর্মকর্তাদের সততা, নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রিহ্যাবের

এমএনএ প্রতিবেদক কর কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ রিয়েল ...