Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরি ঘিরে উত্তেজনা, ইরানের হুঁশিয়ারি; ড্রোন হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি

লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরি ঘিরে উত্তেজনা, ইরানের হুঁশিয়ারি; ড্রোন হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড-কে সহায়তা করা যেকোনো স্থাপনাকে হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র রোববার এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরিটির উপস্থিতি ইরানের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই রণতরিকে যেসব কেন্দ্র লজিস্টিক বা অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে, সেগুলো ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এর কাজ বিভিন্ন সামরিক ইউনিটকে সমন্বয় করে অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা।

এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দেড় ঘণ্টার মধ্যে ৩৭টি ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সাম্প্রতিক তেল অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, ইরান যদি এমন হামলা চালাত, তবে তা গোপন না রেখে প্রকাশ্যেই ঘোষণা করত।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানে তাদের এখনো হাজার হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন জানান, এসব লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে অন্তত আগামী তিন সপ্তাহ—ইহুদিদের পাসওভার উৎসব পর্যন্ত—সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পরবর্তী সময়ের জন্যও আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই কৌশলগত সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান।

আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার এবং এর গতি শব্দের গতির প্রায় ১৩ গুণ।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে তারা একটি ‘নির্ভুল হামলা’ চালিয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই হামলায় দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ব্যবহৃত একটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, উড়োজাহাজটি ধ্বংস হওয়ায় ইরানের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নেতৃত্বের সমন্বয়, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।

x

Check Also

লাভজনক হয়েও ১০১ কোটি টাকা পরিশোধে বিএসসির গড়িমসি, বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখনো ১০১ কোটি টাকার ...