বিশেষ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোহাম্মদ সম্রাট রোবায়েত। তাঁর দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী-কে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ঠেকানো হয় বলে অভিযোগ করেন সম্রাট।
এই অভিযোগ বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম-এর কাছে লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন সম্রাট রোবায়েত, যিনি নিজেই ওই মামলার অভিযোগকারী। তিনি জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ জমা দেন।
সম্রাটের অভিযোগ অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন প্রসিকিউটর—গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, মিজানুল ইসলাম এবং তারেক আবদুল্লাহ—মিলে একটি চক্র তৈরি করে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, বহু সাক্ষী ফারাজ করিমের সম্পৃক্ততার কথা বললেও তাঁকে পরোয়ানা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন ফজলে করিম চৌধুরী। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন পিছিয়ে ১২ এপ্রিল করা হয়েছে।
এর মধ্যেই আরেক বিতর্ক তৈরি হয়, যখন তৎকালীন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি ফজলে করিমের জামিন করিয়ে দিতে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাইব্যুনাল একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে, এবং সাইমুম রেজা পরে পদত্যাগ করেন।
বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সব অভিযোগ যাচাই করে কমিটির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে তাজুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এগুলো ভিত্তিহীন এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর সময় তদন্ত ও প্রসিকিউশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে এবং কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়নি।
সম্রাট রোবায়েত আরও অভিযোগ করেন, ফজলে করিমকে অসুস্থতার অজুহাতে জামিন পাইয়ে দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল। তবে তাজুল ইসলাম এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর সময় এ ধরনের কোনো জামিন আবেদনই আদালতে ওঠেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে সরকার পরিবর্তনের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সরিয়ে আমিনুল ইসলামকে এই পদে বসানো হয়।
এদিকে প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধেও ওঠা অভিযোগগুলো তারা অস্বীকার করেছেন। তামীম ও মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা এই মামলার সঙ্গে জড়িত নন। আর তারেক আবদুল্লাহ বলেন, তিনি কেবল একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে পরোয়ানা নিয়ে সম্রাটের সঙ্গে কথোপকথন হয়েছিল, তবে মামলার বিষয়ে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

