Don't Miss
Home / ভ্রমণ ও পরিবহন / রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাস ডুবি: নিহত ২, জীবিত উদ্ধার ১, নিখোঁজ বহু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাস ডুবি: নিহত ২, জীবিত উদ্ধার ১, নিখোঁজ বহু

এমএনএ প্রতিবেদক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন নারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০–৪০ জন যাত্রী।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা রেহেনা আক্তার (৫৫) ও মর্জিনা (৬০)। জীবিত উদ্ধার হওয়া নারীর নাম নুসরাত (২৯), তিনি একজন চিকিৎসক।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৪০ জন যাত্রী এখনো পানির নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে এসে পৌঁছায়। তখন একটি ফেরি ছেড়ে যাওয়ায় বাসটি পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল।

এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ইউটিলিটি ফেরি ঘাটে এসে পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, বাসটিতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০–৫০ জন যাত্রী ছিলেন। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে যান।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। পরে ঢাকা থেকেও ডুবুরি দল পাঠানো হয়েছে।

তবে প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বাসটি নদীর প্রায় ৯০ ফুট গভীরে অবস্থান করছে এবং সেটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

ঘটনাস্থলে থাকা আবদুস সালাম নামে এক যাত্রী জানান, ফেরির অপেক্ষায় বাসটি পন্টুনের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ ফেরি এসে ভিড়তেই বাসটি চলতে শুরু করে এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

হতাহতদের পরিবারের আহাজারি

দুর্ঘটনার পর ঘাট এলাকায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা ঘাটে এসে প্রিয়জনদের খোঁজ করছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তাদের স্বজনরা এখনো বাসের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন আগে থেকেই নেমে যান এবং কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

সার্বিক পরিস্থিতি

এটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

x

Check Also

লাভজনক হয়েও ১০১ কোটি টাকা পরিশোধে বিএসসির গড়িমসি, বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখনো ১০১ কোটি টাকার ...