Don't Miss
Home / প্রবাস কথা / মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা

এমএনএ প্রতিবেদক

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে কথিত সিন্ডিকেট হোতা সাবেক সংসদ সদস্য ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-এর গ্রেপ্তারে সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা চালুর দাবিতে রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোববার “বায়রা সিন্ডিকেট বিরোধী ঐক্য ফ্রন্ট” আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-এর গ্রেপ্তারে সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-এর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে একটি অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

মানববন্ধন থেকে সিন্ডিকেটের অন্যান্য কথিত হোতাদের নাম উল্লেখ করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন নিজাম হাজারী, বেনজির আহমেদ, লোটাস কামাল, কালা ফিরোজ, মনসুর কালাম, কাজী মফিজ, বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন এবং দাতো আমিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর যে একচেটিয়া ব্যবস্থা চালু ছিল, তা বন্ধ করে উন্মুক্ত পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য শ্রমপ্রেরণকারী দেশের মতো বাংলাদেশের সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম এ সালাম বলেন, “মূল হোতা গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগী অনেক রাঘববোয়াল এখনও বাইরে রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এক-এগারো পরবর্তী সময়ে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বায়রার সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মফিজ উদ্দীন, আকবার হোসেন মঞ্জু, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কাজী শাখাওয়াত হোসেন লিন্টু, মাহবুবুল করিম সিদ্দিকী জাফর এবং এনামুল হকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধন থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো গোষ্ঠী মালয়েশিয়া শ্রমবাজারকে কুক্ষিগত করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন বক্তারা।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং মালয়েশিয়া শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

x

Check Also

ঢাকার চাপ কমাতে সারাদেশে গড়ে তোলা হবে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে দেশের সব অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ...