এমএনএ প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর মধ্যে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন তারা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগের দিনের (বুধবার) অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এর জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি “সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার অসাধারণ দক্ষতা” রাখেন। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “বোতল পরিবর্তন করে উপাদান ঠিক রেখে” বিষয়গুলো উপস্থাপন করার এই ক্ষমতার জন্য তিনি মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়েছেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি আগের দিনের হওয়ায় নতুন করে আলোচনা না করার পরামর্শ দেন।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানিয়ে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ‘মিথ্যা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা সংসদীয় ভাষার দৃষ্টিতে অসংসদীয়। তিনি অনুরোধ করেন, ওই শব্দটি কার্যবিবরণী (এক্সপাঞ্জ) থেকে বাদ দেওয়া হোক। তার ভাষায়, ‘অসত্য’ বলা হলে আপত্তি থাকত না, কিন্তু ‘মিথ্যা’ শব্দটি গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন, আগের দিন বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন যে সেটি ‘অসত্য’। তিনি সংসদের বিধি (রুল ৬২) উল্লেখ করে বলেন, বিরোধীদল ওয়াকআউট করার পর একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা আগে উত্থাপিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে অসত্য বলেছিলেন।
পরে আবার বক্তব্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, একই বিষয়বস্তু নিয়ে একজন স্বতন্ত্র সদস্য আগে একটি প্রস্তাব এনেছিলেন, যা পরদিন ভিন্ন নামে পুনরায় আনা হয়। বিষয়বস্তু একই থাকলেও নাম পরিবর্তিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি পূর্বের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতেন বলেই বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেখানে কোনো ভুল তথ্য দেননি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে ভাষা ব্যবহারের শালীনতা ও বিধি অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

