Don't Miss
Home / জাতীয় / বিসিবি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন, বুলবুলের বিদায়, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

বিসিবি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন, বুলবুলের বিদায়, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

খেলাধুলা প্রতিবেদক

দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ভেঙে দিয়েছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাস বোর্ড পরিচালনা ও নতুন নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে।

২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এনএসসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি জমা দেওয়া প্রতিবেদনে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি, প্রভাব খাটানো এবং স্বচ্ছতার ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে: কাউন্সিলর তালিকা জমার সময়সীমা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো; ভোটার তালিকা প্রকাশে অসঙ্গতি; এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে ক্রীড়া, আইন, ব্যবসা ও একাডেমিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন: আতহার আলী খান – সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার; মিনহাজুল আবেদীন নান্নু – সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক; রাশনা ইমাম – সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী; সৈয়দ ইব্রাহীম আহমদ – বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক; মির্জা ইয়াসির আব্বাস – ব্যাংক পরিচালক; ইসরাফিল খসরু – রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট; ফাহিম সিনহা – সাবেক বোর্ড পরিচালক; রফিকুল ইসলাম বাবু – ক্রীড়া সংগঠক; তানজিল চৌধুরী – ব্যাংকার ও উদ্যোক্তা; ও মির্জা সালমান ইস্পাহানি – শিল্পপতি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, তার কমিটির প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক বিতর্কে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রথম কাজ।

একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দায়িত্ব পাওয়ার মঙ্গলবার রাতেই নতুন পরিষদের নয়জনকে নিয়ে হাইব্রীড মডেলে সভা করেন তামিম ইকবাল। এতে কমপক্ষে ছয়জন সদস্য ভার্চুয়ালী যোগ দেন বলে জানা গেছে।

বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক বিবৃতিতে তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে “ত্রুটিপূর্ণ” ও “দুরভিসন্ধিমূলক” বলে আখ্যা দেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচন বিসিবির সংবিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। বৈধ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং এনএসসির এ ধরনের তদন্তের আইনগত এখতিয়ার নেই।

এছাড়া তিনি বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর নজরে আনার কথা জানান এবং এটিকে ক্রিকেটে সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এমন এক সময়ে এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হলো, যখন মাঠের পারফরম্যান্স ও প্রশাসনিক কার্যক্রম—দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্নের মুখে ছিল সংস্থাটি।

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া তামিম ইকবাল খেলোয়াড়ি জীবনে ১৫ হাজারের বেশি রান করেছেন এবং দেশের অন্যতম সফল ওপেনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এবার তার নেতৃত্বে প্রশাসনিক পর্যায়ে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: এরমধ্যে রয়েছে, আইসিসি কি এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করবে? অ্যাডহক কমিটির অধীনে নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা কত দ্রুত ফিরে আসবে?

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেশের ক্রিকেটকে স্থিতিশীলতা ও আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, সেটিই এখন সময়ের অপেক্ষা।

x

Check Also

কর কর্মকর্তাদের সততা, নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান রিহ্যাবের

এমএনএ প্রতিবেদক কর কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ রিয়েল ...