Don't Miss
Home / জাতীয় / অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধনী বাতিল, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আগের আইন পুনরায় কার্যকর

অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধনী বাতিল, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আগের আইন পুনরায় কার্যকর

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ বাতিল করে আগের ২০০৯ সালের আইন পুনরায় কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু নতুন এই বিল পাসের ফলে সেই সংশোধনী অধ্যাদেশ বাতিল (ল্যাপস) হয়ে গেল এবং পুরোনো আইন আবার কার্যকর হলো।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে বিলটি উপস্থাপনের পরই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি উঠে আসে। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে দাঁড়িয়ে বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রবর্তন করা হচ্ছে, যা অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মত দমনে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, মানবাধিকার কমিশনকে ব্যবহার করে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী শক্তিকে দমন করার বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কমিশনের কিছু বক্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়া একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ, যা দেশের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধিতার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য বিলটি ভালোভাবে পর্যালোচনা না করেই মন্তব্য করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে এবং মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা তৈরি না করতে আপাতত ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করার পর ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল না করা হতো, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে এই ধারণা তৈরি হতে পারত যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন কার্যকর নেই। তাই একটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিলটি পাসের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামো নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সরকার এটি একটি অন্তর্বর্তী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, আর বিরোধী দল এটিকে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছে।

x

Check Also

দীর্ঘ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা মামলার বিচার

বিশেষ প্রতিবেদন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে যখন সারাদেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে, তখনও অনেকের মনে ফিরে ...