এমএনএ প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র হজকে সামনে রেখে হজযাত্রীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শুক্রবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোনো হজ এজেন্সি বা ব্যক্তির প্ররোচনায় পড়ে কেউ যেন নিষিদ্ধ পণ্য বহন না করেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রচলিত আইনে হজযাত্রীদের লাগেজে কিছু পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে—নেশাজাতীয় ওষুধ, তামাক পাতা, জর্দা, গুল, পানপাতা, শুঁটকি, রান্না করা খাবার এবং অন্যান্য পচনশীল দ্রব্য। ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইনেও এসব বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেছে। বারবার সতর্ক করার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, কোনো হজযাত্রীর লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেলে সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হজ পালন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে, এমনকি হজ করার সুযোগও বাতিল হতে পারে।
চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮,৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫,২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭৩,৩০০ জন হজে যাবেন।
হজযাত্রীদের সৌদি আরব গমন শুরু হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এবং ফ্লাইট চলবে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স; পাশাপাশি সৌদি এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য অনুমোদিত এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্যাকেজের মূল্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন, যেখানে বিমান ভাড়া, আবাসন, খাবার ও পরিবহন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হজযাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশব্যাপী ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যাতে হজের আনুষ্ঠানিকতা, স্বাস্থ্যবিধি ও সৌদি আইন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় পুনরায় সকল হজযাত্রীকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পবিত্র হজ পালন করা যায় এবং দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

