আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা’র আর্টেমিস কর্মসূচির দ্বিতীয় মানববাহী চন্দ্রাভিযান ‘আর্টেমিস–২’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে চার নভোচারী বহনকারী ওরিয়ন স্পেসক্র্যাফ্ট পৃথিবীতে ফিরে এসে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছে।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় কিছুক্ষণের জন্য হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মহাকাশযানটির। প্রায় ছয় মিনিটের এই নীরবতা উদ্বেগ তৈরি করলেও পরে অভিযানের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান-এর কণ্ঠস্বর শোনা গেলে স্বস্তি ফিরে আসে। তিনি নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানান, তাঁদের যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।

এই অভিযানে অংশ নেন চার নভোচারী— ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর গ্লোভার ও জেরেমি হ্যানসেন এবং রিড ওয়াইজম্যান। ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করাই ছিল তাঁদের মিশনের প্রধান লক্ষ্য।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এটিই ছিল মানুষের চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে আসার প্রথম অভিযান। এর আগে ২০২২ সালে আর্টেমিস-১ মিশনে কোনো নভোচারী ছাড়াই মহাকাশযান পাঠিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
পুনঃপ্রবেশের সময় মহাকাশযানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার এবং তাপমাত্রা পৌঁছায় প্রায় ২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রচণ্ড তাপে ক্যাপসুলটি লাল প্লাজমায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে। এ সময় সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার ওপর।
উল্লেখ্য, আর্টেমিস–১ অভিযানে হিট শিল্ডে কিছু ক্ষয় দেখা যাওয়ায় এবারের অভিযানে ঝুঁকি কমাতে অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত পুনঃপ্রবেশ পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এই অভিযানে একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ডও গড়া হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন নভোচারী হিসেবে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসেন। একই সঙ্গে তাঁরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যা অ্যাপোলো ১৩ মিশনের দূরত্বকেও ছাড়িয়ে গেছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

