Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের লক্ষ্যে কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের লক্ষ্যে কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের লক্ষ্যে কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা যাচাই, কারিগরি পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ শেষে এই লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্যোগ ও স্থাপনকাল

বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর আগে ২০১১ সালে বাংলাদেশরাশিয়া-এর মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম প্রকল্পটির প্রধান নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

প্রকল্পটি দুইটি ইউনিট নিয়ে গঠিত, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট—অর্থাৎ মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।

জ্বালানি লোডিং ও উৎপাদন পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন হতে পারে। এ বিষয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক কবীর হোসেন বলেন, কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ায় এখন আর বড় কোনো জটিলতা নেই। সরকার উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করলে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে।

নিরাপত্তা ও অনুমোদন

বিএইআরএ চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, আগে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সব সমস্যা সমাধান করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিনিরাপত্তাসহ সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সেফগার্ড মেনে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এই সময়ে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা, কর্মক্ষমতা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক অনুমোদন নিতে হবে। ফলে সেপ্টেম্বরের আগে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

x

Check Also

বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংস্থাটির সঙ্গে ...