এমএনএ প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বর্তমানে ঢাকায় দায়িত্ব পালনরত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে পাঠানো হচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক এই নেতা।
যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় পাঠানোকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকায় দীনেশ ত্রিবেদীকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও দীনেশ ত্রিবেদী দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা সম্পর্কে বোঝাপড়াকে এই নিয়োগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে ভারত একজন রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ প্রতিনিধিকে বাংলাদেশে পাঠানোর পথে হাঁটছে। তারা মনে করছেন, এটি দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাসেরও একটি ইঙ্গিত।
ভারতের কূটনৈতিক প্রথায় সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অভিজ্ঞ ভারতীয় ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই জায়গায় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হলো, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা এবং সীমান্ত, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দ্রুত সমন্বয় বাড়ানো।
দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ। আশির দশকে কংগ্রেসের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে জনতা দলে যোগ দিয়ে ১৯৯০ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ভারতের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বাংলাদেশে ভারতের দূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং এতে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও সংবেদনশীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নয়াদিল্লির এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

