Don't Miss
Home / অর্থনীতি / সৌদিতে কর্মী পাঠাতে ৯৯০টি রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা, ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব

সৌদিতে কর্মী পাঠাতে ৯৯০টি রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা, ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব

এমএনএ প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

সোমবার মন্ত্রীর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের শ্রমবাজার, কর্মী সুরক্ষা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত সৌদি আরবে নিবন্ধিত ৯৯০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সৌদি সরকার ও দূতাবাসের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন এবং এই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করায় বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আধুনিক নানা সেবা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বৈঠকে সৌদি দূতাবাসে রিক্রুটিং এজেন্সির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দেন। দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে বর্তমানে চালু থাকা ৭৩টি পেশার ‘দক্ষতা যাচাইকরণ কর্মসূচি’ আরও সম্প্রসারণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে সৌদি আরবের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিকায়ন এবং যৌথভাবে তদারকির বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, যাচাইকৃত দক্ষ কর্মীদের নিয়ে একটি ডিজিটাল ‘কোয়ালিফাইড ট্যালেন্ট ব্যাংক’ গড়ে তোলা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় কয়েক সপ্তাহ থেকে কমে কয়েক দিনে নেমে আসবে।

জনশক্তি রপ্তানিতে অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা হয়রানির ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে শুধু শ্রমিক নয়, সৌদি আরবে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশিকে হোয়াইট-কলার চাকরিতে নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আলোচিত অনেক বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেসব বিষয় এখনো চুক্তির বাইরে আছে, সেগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তিতে যুক্ত করা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের আকামা ফি নিয়োগকর্তার বহন করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কর্মীদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষা সহায়তার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে ২৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৌদি সরকারের বৃত্তি পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব থেকে সিলেট বিমানবন্দরে সরাসরি সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

x

Check Also

আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, আসছে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থা

এমএনএ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে ...