আদালত প্রতিবেদক
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম-এর সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৫ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর ঘটনায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০ জনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় দিনের বেলা ও রাতে সহিংস ঘটনা ঘটে। পরদিন (৬ মে) নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়। এসব ঘটনার সম্মিলিত হিসাবেই ৫৮ জন নিহত হয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম তাদের ঘোষিত ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ব্লগারদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের বিচার এবং নারী নীতির কিছু ধারার বিরোধিতা। সেদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগঠনটির হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় সমবেত হন।
দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে শাপলা চত্বর খালি করা হয়।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, দুই দিনের ওই সহিংসতায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার জন্য তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এবং এক বিদেশি সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। হাসপাতালের রেকর্ড, নিহতদের পরিবারের সাক্ষাৎকার, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং দাফনের প্রমাণ যাচাই করে তারা এই সংখ্যায় উপনীত হন।
তার ভাষায়, “তদন্তকালে নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি, এমনকি নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।”
বর্তমানে আবারও হেফাজতে ইসলামের বড় সমাবেশকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার স্মৃতিচারণ সামনে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির সমাবেশে বিপুল জনসমাগম দেখা গেলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও মানবাধিকার আলোচনায় বিতর্কিত একটি অধ্যায়। নিহতের সংখ্যা, ঘটনার প্রকৃতি এবং দায় নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। সর্বশেষ তদন্তের তথ্য ও মন্তব্য নতুন করে বিচারিক ও রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

