পৌর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কাটিয়ে দেশের রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরছে। এটা অত্যন্ত আশার কথা। রাজনীতিতে এই সুস্থতা স্থিতিশীল করতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ জরুরি। এক্ষেত্রে সরকার এবং প্রধান বিরোধীদল গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাভাজন হতে হবে। সেইসাথে পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
বিগত বছরের প্রথম তিন মাসের দুঃসহ দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো অনেকের গা শিউরে ওঠে। হাসপাতালে পোড়া মানুষের আর্তচিত্কার এখনো কানে ভাসে। ক্রমান্বয়ে দেশের সহিংসতাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। আর বছর শেষে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ মানুষের প্রত্যাশা আরেক ধাপ এগিয়ে নেয়। সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে—এ আশায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মানুষ। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব এই ইতিবাচক পরিবেশ এগিয়ে নেওয়া এবং রাজনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা। সে জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই জনপ্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে।
বিগত পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বহু অভিযোগ আছে। তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তার পরও বিগত নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তারা থেকেছে এবং নির্বাচনের নানা অনিয়ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে। এটাই গণতান্ত্রিক রীতি।
আশা করা যায়, নির্বাচন কমিশন তাদের অভিযোগগুলো যথার্থ অর্থেই বিবেচনা করবে। এবারের নির্বাচনে কমিশনও তুলনামূলকভাবে অনেক কঠোর অবস্থান নিয়েছিল এবং ইসির সেই ভূমিকা মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। ওদিকে দেশের চার হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এইচএসসি পরীক্ষার পর মে মাসেই এসব নির্বাচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এই নির্বাচনও দলীয় ভিত্তিতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন চলছে আইন সংশোধনের কাজ। সংশোধিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন ও আচরণ বিধিমালা তৈরি হবে। দলীয় ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আমরা আশা করি, পৌর নির্বাচনের মতোই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল সেই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এসব ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেসব অসুস্থ ধারার অনুপ্রবেশ ঘটে গেছে, তা থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে। অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে। পৌর নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন পক্ষ যেভাবে পরস্পরকে আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ করে চলেছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক শালীনতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা এ ধরনের অতিকথনের অবসান চাই। পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশার মূল্য দিয়ে দেশে সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমাদের জাতীয় নেতৃত্ব আরো বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন আশা করি।
-সম্পাদক
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক



