Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিন

রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি বিষয়ে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে দুটি ইতিবাচক দিক উল্লেখ করতেই হয়। প্রথমত, কমিটি সময়মতো প্রাথমিক ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। একবারও সময় বাড়াতে আবেদন জানায়নি। কমিটির কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতা এতেই প্রতিভাত। একথা অনস্বীকার্য যে, রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেয়াটা এখন জরুরি, অন্যথায় দেশে এমন ঘটনা পুনর্বার ঘটতে পারে সে সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন এবং অন্য দু’জন সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোকুলচাঁদ দাস এবং তাদের যে বিশেষজ্ঞরা সাহায্য করেছেন, তারা সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষণা করেছেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে এবং সময় উল্লেখ করে বলেছেন, ১৫-২০ দিনের মধ্যে তা করা হবে। বাংলাদেশে তদন্ত রিপোর্টের ক্ষেত্রে এই দুটি দিকই বিরল।

BB22বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা ও বিদেশী এক সাইবার অপরাধীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুইফটের প্রতিনিধি সেজে সাইবার অপরাধী নিলাভান্নান চার মাস আগে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার পাসওয়ার্ড নকল করে। বাকি চার কর্মকর্তা নিজেদের গোপন ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের তথ্য তার হাতে তুলে দেন। রিপোর্টে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই ৬ কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তারা নিজেরা জেনে বা না জেনে অপরাধীদের সহায়তা করেছেন। এসব কর্মকর্তা অসাবধানতাবশত নিজেদের পাসওয়ার্ডের গোপন তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের গচ্ছিত ৮ কোটি ১১ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার গত ৪ ফেব্র“য়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয়। এ ঘটনা তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

বস্তুত শর্ষের ভূত তথা ভেতরের লোকের যোগসাজশ ছাড়া যে এতবড় একটি চুরির ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়, এটি আগেই অনুমান করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সেই সন্দেহেরই সত্যতা পাওয়া গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কর্মকর্তারা এ ঘটনায় জড়িত, তারা ‘জেনে হোক বা না জেনে’ যেভাবেই এটা করে থাকুক, কাজটি যে একটি বড় ধরনের অপরাধ সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কাজেই অপরাধের শাস্তি থেকে কারও নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় নেই। না জেনে করে থাকলেও তা তাদের অসতর্কতা ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ বহন করে। আর তারা জেনেশুনে এ অপরাধে জড়িত থাকলে বুঝতে হবে লোভের বশবর্তী হয়েই এতে জড়িয়েছে। অধিকতর তদন্ত ও Reserve-Fund-BDজিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত কারণ।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে তদন্ত কমিটি দশ দফা সুপারিশ করেছে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি কার্যকর, সমন্বিত, দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলে ও সার্ভেইলেন্স মেকানিজম সৃষ্টি করে বাস্তবমুখী প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরির সুপারিশও করেছে কমিটি। সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই কাম্য। তদন্ত রিপোর্টে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ ম্যানেজমেন্টের বড় ধরনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুইফটের সুরক্ষিত বার্তা পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বিবি-আরটিজিএস নেটওয়ার্কে জড়িয়ে ফেলা হয়। উড়িয়ে দেয়া হয় ব্যাক অফিসের অ্যান্টিভাইরাস রক্ষাকবচ। এ দুর্বলতার জায়গাটিতেও নজর দিতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।

এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি রির্জাভের চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়েও দৃষ্টি দেয়া জরুরি। চুরির টাকা ফেরত আনতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি যোগ্য আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে তদন্ত কমিটি। আমরা মনে করি, খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো প্রয়োজন। কারণ এই অর্থ জনগণের। মূলত বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী এবং গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকের শ্রম ও ঘামে অর্জিত অর্থই রিজার্ভকে স্ফীত করেছে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনতেই হবে।

-সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...