Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / ব্লেম গেমের রাজনীতি : এভাবে সংকট দূর হয় না

ব্লেম গেমের রাজনীতি : এভাবে সংকট দূর হয় না

দেশেজুড়ে ঘটে চলেছে একের পর এক হত্যা। এটি এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায়ও আমাদের রাজনীতির চিরাচরিত ব্লেম গেম খেলা চলছে। একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এতে করে আর যাই হোক অন্তত সংকট দূর হয় না।

এ অবস্থায় আবারও খুন! গতকাল শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে পাবনার হেমায়েতপুরে প্রাতঃভ্রমণরত একজন আশ্রম-সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। অর্থাৎ টার্গেট কিলিংয়ের একটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশে। উদ্বেগের বিষয় হল, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে পুলিশ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে যখন, ঠিক তার পরপরই নিত্যরঞ্জনকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, টার্গেট কিলাররা সাঁড়াশি অভিযানকে ভ্রুক্ষেপ করছে না, অথবা এমনও হতে পারে এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, সাঁড়াশি অভিযানে তারা মোটেও ভীত নয়।

Mahmuda-Akhter-2বস্তুত দেশ ও জাতি এখন এক মহাসংকটে। এই সংকট থেকে আদৌ উত্তরণ ঘটবে কিনা, সেটাও এক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে ঘটবে উত্তরণ? বর্তমান পরিস্থিতির দায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেভাবে একে অপরের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন, তাতে হত্যাকারীরা বড় সুবিধাই পাচ্ছে বৈকি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বর্তমান অবস্থার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করেছেন, অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন দায়ী করছেন আওয়ামী লীগকে। দেশের দুই প্রধান নেতৃত্বই যদি তদন্তের আগে অপরাধী চিহ্নিত করে ফেলেন, তাহলে তদন্তকারীদের আর বাড়তি কাজ কী? তারা অবধারিতভাবেই পড়বেন সংকটে। সত্য প্রকাশই বা করবেন কীভাবে তারা?

আমরা মনে করি, ব্লেম গেমের রাজনীতি পরিহার করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের বস্তুনিষ্ঠতার স্বার্থে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত। সংকটটা শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা রাজনীতির নয়। এ সংকট সমগ্র জাতির। সুতরাং সংকটের ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঐকমত্য থাকা উচিত। যে সংকটে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়, সেই সংকট নিয়ে অপরাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

দ্বিতীয় কথা, পুলিশ বাহিনী যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামল, এর অর্থ কী? আমরা আগেও লক্ষ্য করেছি ঘোষণা দিয়ে অভিযানে নামা হয়। এটা কি ঘোষণা দেয়ার কোনো ব্যাপার? অপরাধীদের যদি জানিয়েই দেয়া হয় যে, তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করা হবে, তাহলে কি তা তাদের সতর্ক করে দেয়ার নামান্তর নয়? পুলিশের আসল উদ্দেশ্য কি অপরাধী ধরা, নাকি স্টান্টবাজি? জনগণ দেখতে চায় অপরাধীদের পাকড়াও করা হল কিনা, পুলিশ কতটা সাড়ম্বরে কাজ করছে সেটা তাদের জানার বিষয় নয়। তৃতীয় কথা, সাঁড়াশি অভিযানের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে নিরীহ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। কৃতিত্ব জাহির অথবা গ্রেফতার বাণিজ্যের বশীভূত হয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করার আশংকা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

দেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায় চলে গেছে। কে, কখন, কার টার্গেটে পরিণত হবে কেউ জানে না। সংকটটা হয়তো এমন জায়গায় চলে যাবে যে, টার্গেট কিলিংকে অতি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে ধরে নেয়া মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। এমন অবস্থা যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য দ্রুতই গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

-সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...