Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না : আব্বাস

বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না : আব্বাস

এমএনএ রিপোর্ট : বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার গুলশান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় সরানোর সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘বিএনপির একটি কার্যালয় (খালেদার কার্যালয়) সরিয়ে দিয়ে বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না। তখন ঢাকাসহ সারা দেশের ঘরে ঘরে দেশনেত্রীর কার্যালয় তৈরি হবে।’

তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘দেশবাসীকে এমন কোনো গ্যারান্টি কি দেয়া হবে যে, গুলশান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় সরিয়ে দিলে দেশে আর কোনো ঘটনা (সন্ত্রাসী হামলা) ঘটবে না, কিংবা ক্রসফায়ারেও কেউ খুন হবে না?’

আজ বুধবার বাদ আসর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আব্বাস। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ছেলে আরাফাত আব্দুল্লাহ অন্তরের সুস্থতা কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

Gulshan-Office-BNPপ্রসঙ্গত, গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। একইসঙ্গে কূটনৈতিক এলাকায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ-মিছিল ও ঘেরাও কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর সরকারকে এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গুলশান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং বনানী থেকে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টির কার্যালয় সরাতে হবে।

অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘গুলশান ও শোলাকিয়ায় সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুলশানের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় ওখান থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। আমি কিছুক্ষণ আগে শুনলাম, এখনো টেলিভিশনে দেখিনি। যদি তাই হয়, তাহলে আমার প্রশ্ন- কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে ওখান থেকে কি বিএনপির অফিস সরিয়ে দেয়া হবে? কিংবা সারাদেশে বিএনপির যে অফিসগুলো আছে, সবগুলোই কি সরিয়ে দেয়া হবে?’

আব্বাস দাবি করে বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে তার অফিস থাকবে, রাজনৈতিক কার্যালয় থাকবে, এটি তো হতে পারে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির একটি কার্যালয় সরিয়ে দিয়ে বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না। তখন ঢাকাসহ সারা দেশের ঘরে ঘরে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় তৈরি হবে। তিনি বলেন, গুলশান থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয় সরিয়ে দিলে নেতা-কর্মীরা তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের বাড়িতেই যাবেন। এটিই হলো স্বাভাবিক। আমরা কি বেগম খালেদা জিয়ার ড্রইং রুমে গিয়ে মিটিং করতে পারি না?’

মির্জা আব্বাস বলেন, সারা দেশে বিএনপির প্রতিটি কার্যালয় হলো খালেদা জিয়ার কার্যালয়। সেটা কোথাও আবাসিক এলাকাতে, আবার কোথাও বাণিজ্যিক এলাকায়। কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস কোন এলাকায় থাকবে, সরকার থেকে এমন কোনো BNP 2দিকনির্দেশনা কখনো দেওয়া হয়নি। এমন কোনো আইনও পাস হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এমন নিশ্চয়তা কি দেওয়া হবে যে গুলশান থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয় সরিয়ে দিলে দেশে আর কোনো ঘটনা ঘটবে না? গুলশান থেকে কার্যালয় সরানোর পরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার দলটির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় সরাতে চায়। সরকার যদি নিশ্চয়তা দেয় যে কার্যালয়টি সরালে এ ধরনের জঙ্গি হামলা ঘটবে না, তাহলে কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হবে।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জাতি আতঙ্কিত। জাতি এখন ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিঃস্বার্থভাবে সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁকেই বলা হচ্ছে জঙ্গিবাদের নেত্রী।

মোনাজাতপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। আলোচনা শেষে রিজভী ও অন্তরের সুস্থতায় কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক। মোনাজাতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুগ্ম-সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, উত্তরের সহ-সভাপতি কফিল উদ্দিন ভুইয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন; ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

 

Save

x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...