Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / চা বিক্রেতা ফিরোজ এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে

চা বিক্রেতা ফিরোজ এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : প্রতিভা কোন ভাবেই চাপা রাখা যায় না। তা একদিন বিকশিত হবেই। দারিদ্রতার কষাঘাতেও হতবিহবল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বড়সলুয়া গ্রামের ফিরোজ তা প্রমাণ করেছে। চা বিক্রেতা ফিরোজ এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে।

নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে সংসারে, সে সংসারে জন্ম নেওয়া ফিরোজ তার কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছে। কোন কিছুতেই দামিয়ে রাখতে পারেনি তার প্রচেষ্টাকে। এবার এইচ এস সি পরীক্ষায় কৃতিত্ব’র সাথে এ প্লাস পেয়েছে। এ প্লাস পেয়েও কিভাবে আগামী পথ পাড়ি দেবে তা নিয়ে দুঃচিন্তার যেন শেষ নেই মা ফিরোজা বেগমের। স্বপ্ন অনেক বড় কিন্তু সাধ্য কই।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বড়সলুয়া দক্ষিণ পাড়ার মৃত হায়দার আলীর ২ ছেলে ১ মেয়ে। বড় ছেলে ফারুক শেখ দিন মুজুর, মেজ ছেলে ফিরোজ আলীও দিনমুজুর আর চা বিক্রি করে সে করছে লেখা পড়া, এক মাত্র মেয়ে হাওয়া খাতুন তিতুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। মা ফিরোজা বেগম সংসার চালানো আর সন্তানদের লেখা পাড়া করাতে গিয়ে দিশেহারা।

Ferose২০১৪ সালে তিতুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ প্লাস পেয়ে এস এস সি পাশ করে ফিরোজ। ফিরোজ দিনের বেলায় পরের জমিতে কামলা খাঠে আর সন্ধ্যা বেলায় বাড়ির সাথে থাকা চা’য়ের দোকানে বইয়ের পাতা খুলে রেখে পড়াশুনা আর চা বিক্রি করে লেখা পড়ার খরচ জোগাড় করে। এসএসসি পাশের পর বড়সলুয়া নিউ মডেল কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয় সে। দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে না খেয়ে, সহপাঠিদের কাছ থেকে বই ধার করে ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মানবিক বিভাগ থেকে পেয়েছে এ প্লাস। ফিরোজের স্বপ্ন অনেক বড়। সে স্বন পাড়ি দিতে মেধাও আছে তার। ছেলের স্বপ্নপুরন নিয়ে মা ফিরোজা বেগম রয়েছে দুঃশচিন্তায়। কি ভাবে লেখা পড়া ও বই কেনা হবে সন্তানের।

ফিরোজদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মাটির দেয়ালের ছোট একটি এক চালা টিনের ঘর। এ ঘর জুড়ে বসবাস করতে হয় তাদের। সম্পদ বলতে সাড়ে ৩ কাঠা জমির উপর বাড়ি টুকুই। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় ফরিদপুরে কাজ করতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় ফিরোজের বাবা হায়দার আলী।

মা ফিরোজা বেগম বলেন, আমি নিজে লেখা পড়া জানিনা। শত কষ্টের মাঝেও ছেলে মেয়ের লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। সামনে এগিয়ে যাবার মত কোন রাস্তা নেই। চোখ মুছতে মুছতে তিনি আরও বলেন, সকালে পান্তা ভাত সাথে কাঁচা ঝাল কোন দিন জুটেছে আবার কোন দিন না খেয়েই চলে গেছে স্কুল ও কলেজে। সে একদিন ৫টি টাকা চেয়ে ছিলো আমার কাছে দিতে পারেনি। সে কষ্টের দিনটি এখনও আমায় কাঁদায়। খাতা কলম জুটেনি অনেক সময়।

ফিরোজ আলী চোখে মুখে হতাশার ছাপ। তার স্বপ্ন লেখা পড়া শিখে সে একজন ন্যায় বিচারক হবে। কিন্তু সে পথত অনেক বাকী।

সে জানায়, বড়সলুয়া নিউ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের সহযোগিতা এবং শিক্ষদের অনুপ্রেরণায় শত কষ্টের মাঝেও লেখা পড়া চালিয়ে এসিছি। বাকি পথ কি ভাবে পাড়ি দিব বুঝতে পারছি না।

অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, ফিরোজ খুবই বিনয়ী এবং মেধাবি ছাত্র। কলেজে পড়াশুনা করা অবস্থায় কলেজের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সহযোগিতা পেলে হয়ত তার স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়ন হবে। তার বড় হওয়ার জন্য রইল দোয়া।

ফিরোজের মেধা বিকাশ এবং স্বপ্ন পুরণে সমাজের বিত্তবানরা কি এগিয়ে আসবে। না কি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে তার বিচারক হবার স্বপ্ন ? সন্তানের ভবিষৎ গড়ার জন্য সকলের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কামনা করেছেন মা ফিরোজা বেগম।

ট্যাগসমূহ : ফিরোজ, চা বিক্রেতা, এইচএসসি, এ প্লাস
x

Check Also

মাদকদ্রব্য পাচার, অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

এমএনএ প্রতিবেদক মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার ও অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ...