কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের ছেলে মেজর জাহিদই মিরপুরের রূপনগরে অভিযানে নিহত জঙ্গি জাহাঙ্গীর ওরফে মেজর মুরাদ।
তিনি কানাডায় যাওয়ার কথা বলে সেনাবাহিনী থেকে চাকরি ছাড়েন। এরপর যোগ দেন নিউ জেএমবিতে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার পরিচয় প্রকাশের পর রোববার ভোর থেকে স্থানীয় সাংবাদিক, উৎসুক জনতা ও পুলিশ কুমিল্লা সদরের ‘ড্রিম হাউজ’ নামে জাহিদের গ্রামের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়।
জানা গেছে, নিহত মুরাদের প্রকৃত নাম জাহিদুল ইসলাম। তারা দুই ভাই এক বোন। জাহিদ সবার বড়। জাহিদের স্ত্রীর নাম জেবুন্নাহার। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। জাহিদের পৈত্রিক নিবাস সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালের দিকে নুরুল ইসলাম কুমিল্লার চাঁন্দপুর এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করেন। তৃতীয়তলা ভবনের দ্বিতীয়তলায় তিনি ও তার স্ত্রী জামিলা ইসলাম থাকেন।
প্রথম ও তৃতীয়তলা ভাড়া দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে নুরুল ইসলামের হার্টে রিং পরানো হয়েছে। গত শুক্রবার তিনি চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ ঢাকায় গেছেন। এখনও ফিরে আসেননি বলে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন।
তবে জাহিদ জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা তা এলাকাবাসী অবগত নন। সংবাদ মাধ্যমে তারা জাহিদ সম্পর্কে জেনেছেন। জাহিদ ৫/৬ মাস আগে একবার এলাকায় এসেছিলেন। গত রোজার সময় স্থানীয় মসজিদে জাহিদের বাবা বলেছিলেন, জাহিদ মেজরের চাকরি ছেড়ে কানাডা চলে গেছে।
তবে জাহিদের সেনাবাহিনীর চাকরি কিংবা স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার তথ্যও বাড়ির লোকজন অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী মেজর মুরাদের ছবি দেখে সেই ছবি জাহিদ বলে শনাক্ত করেছেন। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল বারেক, জয়নাল আবেদীন, তন্বী আক্তার জানান, তারা জাহিদকে এ বাড়িতে খুব কমই দেখেছেন।
ওই বাড়ির সামনে উপস্থিত কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জাহিদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে এখানে আসি, বাসায় ভাড়াটিয়া ছাড়া কেউ নেই। ছবি দেখে স্থানীয়রা জঙ্গি মুরাদকে জাহিদ বলে শনাক্ত করেছেন।
এলাকার ইউপি সদস্য মো.ইউনুস মিয়া বলেন, জাহিদকে আমরা চিনি না। তার বাবার সঙ্গে আমাদের পরিচয় রয়েছে। জঙ্গি কার্যক্রমে সে জড়িত ছিল কিনা তাও জানি না।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

