এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩ হাজার ২০০ কোটি (৩২ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়েছে।
আজ বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে আট মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপরেই আবস্থান করবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানিয়েছেন।
গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
৪ নভেম্বর রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করলেও আকুর দেনা শোধের পর তা কমে গিয়েছিল।
বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এলে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো আকুর আমদানি বিল বকেয়া রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ।
১৬ বছরের মাথায় সেই রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই হিসাবে গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়েছে ৩২ গুণ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
এরপরেও রিজার্ভ বাড়ার কারণ হিসেবে রপ্তানি আয় এবং বিদেশি সাহায্য বাড়ার কথা বলছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি খাতে ব্যয় বেড়েছে। তবে ফরেন এইড (বিদেশি সাহায্য) বেশি ছাড় এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারার কারণেই রিজার্ভ বাড়ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ খোয়ানোর পর নানা ধরনের সমালোচনার মধ্যে ৩২ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতির এই গবেষক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল।
এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভ ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। তখন আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই একবারই আকুর বিল বকেয়া রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ কম।
আর চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জুলাই-জানুয়ারি সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স কমেছে ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছিল।
আর চলতি অর্থ বছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এই সাত মাসে বিদেশী সাহায্য বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

