এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মুক্তি পেয়েছেন মিসরের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক। ছয় বছর ধরে বন্দী থাকার পর আজ শুক্রবার মুক্তি পেলেন তিনি। ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মিসরের সাবেক এই একনায়ক।
হোসনি মোবারকের আইনজীবীর বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, হোসনি মোবারক মিসরের রাজধানী কায়রোর দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক হাসপাতাল ছেড়ে নিজ শহর হেলিওপলিসের নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। অসুস্থ থাকায় ওই হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে গত ২ মার্চ মিশরের সর্বোচ্চ আপিল আদালত কয়েকশ’ বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ থেকে ৮৮ বছর বয়সী সাবেক এ স্বৈরশাসককে বেকসুর খালাসের আদেশ দেন। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ১৮ দিনের গণবিপ্লবের (আরব বসন্তের) সময় মোবারকের সরকারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে ৮৪৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। পরে ক্ষমতাচ্যুত হন মোবারক। ওই বছরের এপ্রিলে বন্দী করা হয় মোবারককে, মুখোমুখি করা হয় বিচারের।
বিক্ষোভকারী হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে ২০১২ সালে নিম্ন আদালত হোসনি মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুইবার উচ্চ আদালতে আপিল করেন মোবারক।
বিপ্লবের দিনগুলোতে নিহতদের স্বজনরা আপিল আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা ওই গণহত্যার জন্য মোবারকের পাশাপাশি বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসিরও বিচার দাবি করেছেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসি ওই সময় (হোসনি মোবারক শাসনামলে) সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন।
পরবর্তীতে দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি জেনারেল সিসিকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ দেন এবং ২০১৩ সালের আগস্টে সিসির হাতেই ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
সরকারি তহবিল তসরুফের অভিযোগে এরই মধ্যে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন হোসনি মোবারক।
সাবেক এই একনায়কের বিরুদ্ধে বিপ্লব-পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বহু অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেসব অভিযোগের প্রায় সবগুলোতে তিনি নিজের শাসনামলে স্থাপিত বিচার বিভাগের কাছ থেকে বেকসুর খালাস পান।
বর্তমানে ৮৮ বছর বয়সী হোসনি মোবারক ১৯৮১ সালে আনোয়ার সাদাত নিহত হওয়ার পর মিসরের প্রেসিডেন্ট হন। টানা তিন দশকের বেশি সময় তিনি মিসরের ক্ষমতায় ছিলেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

