এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী ও উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) বিক্রি করে দেওয়া ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কিনল এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান কিনেছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানালেও এ ব্যাপারে এস আলম গ্রুপের আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।।
বিএসইসি ও সিএসইর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, গত মঙ্গলবার তিনটি ব্লক ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ২৭৪ কোটি টাকায় ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০টি শেয়ার বিক্রি করেছে আইডিবি। পুরো শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে সিএসইতে। এ স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস রিলায়েন্স
ব্রোকারেজ সার্ভিসেসে এসব শেয়ার কেনাবেচা হয়। ব্রোকারেজ হাউসটির স্বত্বাধিকারী এস. আলম গ্রুপ। ব্রোকারেজ হাউসটির শীর্ষ এক কর্মকর্তাও লেনদেনের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন।
বেসরকারি খাতের সর্ববৃহৎ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা আইডিবি। গত সোমবার পর্যন্ত এ সংস্থার মালিকানায় ছিল ব্যাংকটির সাড়ে ৭ শতাংশ (১২ কোটি ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৫ শেয়ার)। এরমধ্যে গত মঙ্গলবার ৭২ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে সংস্থাটি। গত জানুয়ারিতে তাদের না জানিয়ে ব্যাংকটির মালিকানা ও নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আইডিবি অধিকাংশ শেয়ার বিক্রি করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আইডিবির বিক্রি করে দেওয়া সমুদয় এ শেয়ার কিনেছে এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, জেএমসি বিল্ডার্স ও এক্সেলসিওর ইমপেক্স। এর মধ্যে এক্সেল ডাইং আগে থেকেই ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ারের দুই শতাংশ শেয়ার কিনে পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব করছে। ড. মো. সিরাজুল করিম এক্সেল ডাইংয়ের মনোনীত পরিচালক। গত মঙ্গলবার আইডিবির বিক্রি করা শেয়ার থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৮১৪ শেয়ার কিনেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ৫ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ১৪৬টি শেয়ার কিনেছে জেএমসি বিল্ডার্স ও এক্সেলসিওর ইমপেক্স।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোম্পানি এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের চেয়ারম্যান বদরুন নেসা আলম। তিনি এস. আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বোন। বদরুন নেসা আলমের স্বামী ওয়াহিদুল আলম শেখ এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাকি দুই কোম্পানির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য না মিললেও সিএসইর কর্মকর্তারা জানান, তারা জেনেছেন ওই দুই কোম্পানিও এস. আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান বা তাদের পারিবারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
এস. আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বিদেশে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়িক গ্রুপটির শীর্ষ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারাও জানান, বদরুন নেসা আলম গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বোন।
জঙ্গি অর্থায়নসহ স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঘনিষ্ঠদের ব্যাংকটির নেতৃত্ব থেকে অপসারণের ইস্যুতে কয়েক বছর ধরে আলোচনায় আছে ইসলামী ব্যাংক। গত ৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় নতুন করে বড় ধরনের পরিবর্তন ব্যাংকটিকে ঘিরে নতুন আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তখনই নতুন মালিকানার বিষয়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এস. আলম গ্রুপের নাম।
জানা গেছে, জানুয়ারিতে নেতৃত্ব বদলের বেশ আগে থেকেই অবশ্য এ ব্যাংকের শেয়ার কিনতে শুরু করে অখ্যাত সাতটি কোম্পানি। এসব কোম্পানি ২ শতাংশ করে মোট ১৪ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানার বড় অংশীদার হয়। গুজব আছে এ কোম্পানিগুলো এস. আলম গ্রুপ বা এর চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
জানুয়ারিতে নতুন পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণের দিন ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় গ্রাহক এস. আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ ব্যাংকে এসেছিলেন। তিনি নবগঠিত পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করলে এ গুজব আরও ডালপালা মেলে। ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশ্বাস
করেন, নতুন করে যেসব কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় এসেছে, সেগুলোও এ শিল্প গ্রুপের।
ইসলামী ব্যাংক ছাড়াও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনআরবি গ্গ্নোবাল ব্যাংকেও এস. আলম গ্রুপের মালিকানা রয়েছে বলে শোনা যায়। জানুয়ারিতে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিভাগে ব্যাপক পরিবর্তনের সময় ইউনিয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল হামিদ মিঞাকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়।
অবশ্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব আরাস্তু খান দায়িত্বগ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি আরমাডা স্পিনিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। এ কোম্পানিতে এস. আলমের শেয়ার নেই।
এস. আলম গ্রুপ বা এর সংশ্লিষ্টরা অবশ্য ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন না। তবে গ্রুপটি কয়েক বছরে আল্-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে নেতৃত্ব নিয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও সাধারণ বীমা কোম্পানি নর্দানের গ্রুপটির মালিকানা কিনেছে। এসব তথ্য গ্রুপটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

